কলকাতা: সপ্তমীর সন্ধ্যায় চরম হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় ও আকর্ষণীয় পুজো চোরবাগান সর্বজনীন (Chorbagan Pujo)-এর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়ি ও পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী অসুস্থ ও আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে শিশুসহ ১৮ জনের মৃত্যু ও ২৫ জনের মতো আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
উপচে পড়া ভিড়, পদপিষ্টের মতো ঘটনা
চোরবাগানে সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে উপচে পড়ে ভিড়। বাইরে সে সময় ঝেঁপে বৃষ্টি চলছে। আর সেসময় চোরবাগান পুজো মণ্ডপে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। জানা যাচ্ছে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপের ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মানুষ। ভিতরের বৃত্তাকার পথে কয়েকজন পড়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৫ জন আহত। আহতদের মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কয়েক জন গুরুতর জখম বলে খবর।
রাতেই হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনুসন্ধান হবে। কারা দায়িত্বে ছিল, তা দেখা হবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজও আনা হবে বলে জানান শুভেন্দু। আরো জানা যায়, ক্লাবের সকলকে থানায় ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে একটি টোল ফ্রি হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে, যার নম্বর ১৮০০৩৪৫৫৬৭৮।
মৃতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সাহায্য
মৃতদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা এবং একটি সরকারি চাকরির কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের চিকিৎসার ভার নিয়েছে রাজ্য সরকার। এদিকে, আপাতত চোরবাগানের মণ্ডপ ঘিরে রেখেছে পুলিশ। নিহতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে কেন্দ্র সরকারও।
চোরবাগান পুজো কমিটির এবারের আয়োজন
চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির পুজো মণ্ডপে এবছরের থিম ছিল অরব। ইংরেজি তর্জমায় ‘বিয়ন্ড সাউন্ড’। শব্দের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে নীরবতার গভীরে পৌঁছোনোর এক বিশেষ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে এই মণ্ডপে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন