নয়াদিল্লি/কলকাতা: উৎসবের মরসুম শেষ হতেই আবহাওয়ার ভোলবদল (West Bengal weather update)। চলতি সপ্তাহে দেশের অধিকাংশ রাজ্যে মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করলেও, আগামী সপ্তাহেই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যেতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন গ্লোবাল ওয়েদার মডেলের ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, চলতি মাসের শেষদিকে বঙ্গোপসাগরে (Cyclone in Bay of Bengal) একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষত উপকূলীয় ও সংলগ্ন রাজ্যগুলোতে ব্যাপক বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে (Weather News Bengali)।
চলতি সপ্তাহের আবহাওয়া: মূলত শুষ্ক, ব্যতিক্রম কেবল পাহাড়
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে দেশের উপদ্বীপীয় এবং মধ্যাঞ্চলে বর্ষা বিদায় নিলেও শীতের প্রবেশ পুরোপুরি ঘটেনি। স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দেশের প্রায় সর্বত্রই আকাশ মূলত পরিষ্কার এবং আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। তবে উত্তর-পূর্ব ভারত এবং হিমালয় সংলগ্ন পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে (যেমন উত্তরবঙ্গ, সিকিম বা হিমাচল প্রদেশ) স্থানীয় মেঘ ও জলীয় বাষ্পের কারণে দু-এক পশলা হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর বাইরে চলতি সপ্তাহে অন্য কোথাও ভারী বা টানা বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা
আবহাওয়া বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, প্রতি বছরই অক্টোবর-নভেম্বর মাস হলো বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় (Post-monsoon cyclone alert) তৈরির আদর্শ সময়। বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আন্দামান সাগর ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এটি একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
মাসের শেষদিকে এই নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে এবং উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি আসতে পারে।
আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির পূর্বাভাস ও সতর্কতা
সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়টি যদি পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছায়, তবে আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় থেকে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যাবে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবহাওয়া দপ্তর (Today weather news) প্রতিনিয়ত সাগরের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। নিম্নচাপটি সুস্পষ্ট রূপ নিলেই এর সুনির্দিষ্ট গতিপথ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী মৎস্যজীবীদের গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন