Advertisement

মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে উত্তাল ঢাকা, তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফিরল ভারত-বিরোধী স্লোগান

Advertisement
Anti India slogans resurface in Dhaka protests against PM Tarique Rahman inflation power crisis
Representative Image / AP

ঢাকা: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ফের একবার ভারত-বিরোধী স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে। দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ঘাটতি এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের (PM Tarique Rahman Bangladesh) ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি ভারত-বিরোধী সুর চড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ এই অর্থনৈতিক অসন্তোষে এক নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মাত্রা যোগ হয়েছে (International News Bengali)।

বিক্ষোভ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি

ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (NCP)-র উদ্যোগে ঢাকায় আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ সামিল হন। এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এবং জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পদত্যাগ দাবি করেছেন (Dhaka protests power crisis)।

'দিল্লি না ঢাকা' স্লোগান ও ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ

এদিনের বিক্ষোভ কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এনসিপি নেতারা মঞ্চ থেকে "দিল্লি না ঢাকা" স্লোগান দিচ্ছেন এবং উপস্থিত জনতা "ঢাকা, ঢাকা" বলে তার জবাব দিচ্ছে (Anti India slogans Dhaka)।

জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় নাহিদ ইসলাম ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থ রক্ষায় সম্পূর্ণ অক্ষম। কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে হত্যা, অসম ও পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন এবং দিল্লিতে মসজিদ ভাঙার পরিকল্পনার মতো একাধিক বিস্ফোরক দাবি তোলেন।

গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে হুঁশিয়ারি

বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তি (Ganga water sharing treaty) নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন নাহিদ। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে ৩০ বছর মেয়াদি এই ঐতিহাসিক চুক্তি। নাহিদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তির নবীকরণের সময় বাংলাদেশ যদি জলের ন্যায্য হিস্যা না পায়, তবে দেশের মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনে রাস্তায় নামবে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তাদের জীবনজীবিকার জন্য এই নদী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভারত-বিরোধী আখ্যান

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় ভারত-বিরোধী আখ্যান জোরালোভাবে জায়গা করে নিয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও একাধিক ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতা নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন। সেই সময় বাংলাদেশ ক্রমশ ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

এদিনের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি সাংসদ হাসনাত আব্দুল্লাহও। এর আগে তিনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী উপাদানগুলোকে সমর্থন করার এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'শিলিগুড়ি করিডোর' নিয়ে প্রকাশ্য হুমকি দিয়েছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ধরনের ভারত-বিরোধী স্লোগান কিছুটা কমলেও, শুক্রবারের এই সমাবেশ প্রমাণ করল যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থেকে ভারত-বিরোধী মনোভাব এখনও মুছে যায়নি।

চরম অর্থনৈতিক সংকট ও ঘেরাওয়ের হুমকি

তবে এই বিক্ষোভের তাৎক্ষণিক কারণ হলো দেশের ক্রমাবনতিশীল অর্থনীতি। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতার জেরে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোশাক শিল্প (Garment Sector) ও অন্যান্য শিল্প উৎপাদনে (Bangladesh economic crisis inflation)।

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি (Inflation) প্রায় ৮.৫ শতাংশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। আয়ের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় দেশে নতুন করে আরও প্রায় ২১ লক্ষ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গিয়েছেন।

সমাবেশ থেকে নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দুই মন্ত্রী যদি পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন, তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবন ঘেরাও করা হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে 'স্বৈরাচারী' আখ্যা দিয়ে পূর্ববর্তী শাসকের (শেখ হাসিনা) সঙ্গে তাঁর তুলনাও টেনেছেন।

Advertisement
Sangbad Ekalavya Logo

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in

মন্তব্যসমূহ