মা আসছে ...

রাজ্যে এবার সমস্ত প্রশাসনিক কাজে বাংলা বাধ্যতামূলক, নতুন নির্দেশিকা জারি নবান্নের

West Bengal Govt Mandatory Bengali Language Policy
Picture: SE


কলকাতা, সংবাদ একলব্য: রাজ্য প্রশাসনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এখন থেকে সমস্ত সরকারি দপ্তর, স্বশাসিত সংস্থা, স্থানীয় পুরসভা ও পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে থানা পর্যায়ের আইনি ও প্রশাসনিক নথিপত্রে বাংলা ভাষার বহুল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিক ও প্রশাসনের মধ্যে যোগসূত্র আরও দৃঢ় করতেই নবান্নের এই পদক্ষেপ।



বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর এবার বিজ্ঞপ্তি 

গত জুলাইয়ে কলকাতা সফরে এসে শুভেন্দুকে বাংলা ভাষার মর্যাদা এবং ব্যবহার বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেইমতো রাজ্যের নতুন ভাষানীতি ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়েছিলেন, রাজ্যে সরকারি কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এ বার বিজ্ঞপ্তিও জারি করে দিল নবান্ন। জানান, ১ সেপ্টেম্বর থেকে তা কার্যকর হবে। সেইমতো গত ৩১ অগস্ট একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজ্যের কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার বিভাগ। শনিবার ওই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ্যে আসে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্য প্রশাসনে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক ভাবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। 



নির্দেশিকার মূল বিষয়সমূহ

নবান্ন সূত্রে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্য সরকারের দৈনন্দিন নথিপত্র ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ফাইল নোট শিট, সরকারি অর্ডার, সাধারণ বিজ্ঞপ্তি এবং পরিপত্র প্রধানত বাংলা ভাষায় তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এফআইআর (FIR) দায়ের, সাধারণ অভিযোগ বা ডায়েরি গ্রহণ, সাধারণ মানুষের জন্য সচেতনতামূলক বার্তা ও নাগরিক পরিষেবা সংক্রান্ত ক্ষেত্রে ব্যাপক হারে বাংলা ভাষা ব্যবহার করা হবে। 



বাস্তবায়নে মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন 

জানা গেছে, কর্মসূচির সার্বিক বাস্তবায়ন, তদারকি এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তাঁর সভাপতিত্বে রাজ্যস্তরের একটি পরিচালন সমিতি গঠনের কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। ওই কমিটি বিভিন্ন বিভাগ, প্রতিষ্ঠান, ভাষাবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী মতামত নেবে। পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে বিভাগীয় বাস্তবায়ন সমিতি এবং প্রতিটি জেলায় জেলা বাস্তবায়ন সমিতি গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এই কমিটিগুলি নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার, অনুবাদের কাজ পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনা করবে। তিন মাসের মধ্যে কোথায় কী করণীয়, কোথায় কিসের ঘাটতি রয়েছে, তা নিয়ে প্রতিটি বিভাগকে সমীক্ষা করতে বলেছে নবান্ন। 


Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in