মা আসছে ...

রাজ্যের কর্মরত শিক্ষকদের বাধ্যতামূলক দিতে হবে টেট! সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পর্ষদ ও কমিশনকে চিঠি শিক্ষা দপ্তরের

In-service teachers TET exam West Bengal Supreme Court order
Graphics: SE

কলকাতা: রাজ্যের কর্মরত বা ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের (In-service teachers) জন্য এবার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা সামনে এল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য 'টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট' বা টেট (TET) আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের (School Education Department) পক্ষ থেকে এই বিষয়ে একটি কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC) এবং পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের (WBBPE) সভাপতিকে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২০০৯ সালের ‘রাইট টু এডুকেশন’ (RTE Act 2009) আইন প্রণয়নের আগে যে সমস্ত শিক্ষক নিয়োগ পেয়েছেন এবং যাদের চাকরির মেয়াদ এখনও পাঁচ বছরের বেশি বাকি রয়েছে, তাঁদের চাকরিতে বহাল থাকতে গেলে এই টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও শিক্ষা দপ্তরের কড়া পদক্ষেপ

স্কুল শিক্ষা দপ্তরের ওই বিজ্ঞপ্তিতে শীর্ষ আদালতের জোড়া নির্দেশের (১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং ২৯ মে ২০২৬) কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court Order on TET 2026) নির্দেশ অনুযায়ী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে:

  • কর্মরত শিক্ষকদের টেট যোগ্যতা অর্জনের জন্য আগের দুই বছরের সময়সীমা বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে।
  • আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৮-এর মধ্যে যেকোনো মূল্যে শিক্ষকদের এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
  • এই সময়ের মধ্যে যাতে যোগ্য কর্মরত শিক্ষকরা পরীক্ষায় বসার এবং পাস করার পর্যাপ্ত সুযোগ পান, তার জন্য বছরে অন্তত দু'বার (প্রায় ছ'মাস অন্তর) টেট পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই বিষয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে নিজেদের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকার জন্য পরীক্ষার দিনক্ষণ ও প্রস্তুতির প্রাথমিক রিপোর্ট দ্রুত শিক্ষা দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টকে তা জানানো যায়। শিক্ষা দপ্তরের এই নির্দেশিকার ফলে ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য টেট পরীক্ষা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে সংশয় ও ধন্দ

তবে এই সরকারি নির্দেশিকা সামনে আসার পরেই শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে বেশ কিছু ধন্দ এবং সংশয় তৈরি হয়েছে (West Bengal In-service Teachers TET)। বিশেষ করে নরমাল সেকশনে কর্মরত শিক্ষক, ডাই-ইন-হারনেস (Die-in-harness) কোটায় নিযুক্ত শিক্ষক এবং উচ্চমাধ্যমিক (HS Section) স্তরের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কলকাতা হাইকোর্টের পুরোনো একটি রায় অনুযায়ী নরমাল সেকশনের শিক্ষকদের আপার প্রাইমারিতে দেখানোর ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে, যা এই সংশয় আরও বাড়িয়েছে।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা বা তালিকা প্রকাশ করা, যেখানে কোন কোন ক্রাইটেরিয়ার ভিত্তিতে ঠিক কাদের এই টেট পরীক্ষা দিতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ থাকবে।

পরবর্তীতে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ বা স্কুল সার্ভিস কমিশন টেটের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি (WBSSC TET Notification) প্রকাশ করলে পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে বলে শিক্ষামহল মনে করছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. কর্মরত শিক্ষকদের কি সত্যিই টেট পরীক্ষা দিতে হবে?

হ্যাঁ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০০৯ সালের আগে নিযুক্ত যে সমস্ত শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ এখনও ৫ বছরের বেশি বাকি আছে, তাঁদের চাকরিতে বহাল থাকতে টেট পাস করা বাধ্যতামূলক।

২. ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের টেট পাস করার শেষ সময়সীমা কবে?

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কর্মরত শিক্ষকদের আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৮-এর মধ্যে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

৩. নরমাল সেকশন ও ডাই-ইন-হারনেস শিক্ষকদের কী হবে?

এই বিশেষ ক্যাটাগরির শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ঠিক কী নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে এখনও ধন্দ রয়েছে। স্কুল সার্ভিস কমিশন বা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in