টেট-কে রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর হুংকার হুগলী জেলা UUPTWA সংগঠনের চতুর্থ সম্মেলনে
গৌতম সাহা, ব্যান্ডেলঃ
উস্থি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন হুগলী জেলা কমিটির চতুর্থ জেলা সম্মেলন-2026 অনুষ্ঠিত হলো ব্যান্ডেল শহরে অবস্থিত শরৎ চন্দ্র রেলওয়ে ইনস্টিটিউট হলে।
অনুষ্ঠানের প্রারম্ভিক সূচনা হয় সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্বের হাতে প্রদীপ প্রজ্জোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। দেশের হয়ে যারা শহীদ হয়েছেন বা শিক্ষক- শিক্ষিকা ও বিশিষ্টজন যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন তাদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে।
খসড়া সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পাঠ করেন বিদায়ী সম্পাদক কৌশিক মন্ডল ও হিসাব সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠ করেন কোষাধ্যক্ষ সঞ্জিত চক্রবর্তী। বিদায়ী সভাপতি সভার কাজ নিপুণ হাতে পরিচালনা করেন।
এর পর জেলার প্রতিটি চক্র থেকে আগত প্রতিনিধি বিভিন্ন চক্রের হয়ে চক্র তথা জেলা সংগঠনের নানা বিষয়ে পর্যালোচনা করেন ও বিভিন্নভাবে গঠনমূলক প্রস্তাব তুলে ধরেন। এরপর সম্মেলন মঞ্চে বিশিষ্ট অতিথি হিসাবে উপস্থিত হয়ে সম্মেলনের উৎকর্ষ বৃদ্ধি করেন সংগঠনের সম্পাদক তথা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক মাননীয় ভাস্কর ঘোষ মহাশয়।
এরপর মঞ্চে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের গভঃ বডি সদস্যা তথা এই জেলার অবজারভার মাননীয়া বেলা সাহা ও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি মাননীয় সন্দীপ ঘোষ মহাশয়। অরাজনৈতিক পরিসরে 'উস্থি' নামক প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনটি কোন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় না থেকে অরাজনৈতিক সত্ত্বা বজায় রেখে চলেছে ও জোরালো সংগ্রাম, আন্দোলনের মাধ্যমে বিভিন্ন দাবী নিয়ে এগিয়ে চলেছে ও ভবিষ্যতেও চলবে বলে তিনি দাবী করেন।
শুধুমাত্র শিক্ষক স্বার্থে নিয়োজিত না হয়ে নানা রকম প্রাসঙ্গিক সামাজিক বিষয়ে ধারাবাহিক ভাবে সরব হয়ে চলেছে যা অন্যান্য সংগঠনের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন। চক্রগত প্রতিবেদন পাঠের কাজ সমান ভাবে চলতে থাকে।
সংগঠনের সহঃ সভাপতি চন্দন চাটার্জি তার জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন হিসাবে UUPTWA যেভাবে এ রাজ্যের বিভিন্ন সংগঠন কে নানা দাবীর সাপেক্ষে লড়াই এর পথ দেখাচ্ছে তা ঈর্ষনীয়। এই সময়ের সবথেকে প্রাসঙ্গিক বিষয় 'টেট' পরীক্ষায় সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকদের অবশ্যক ভাবে পাশ করার যে ফতোয়া জারি হতে চলেছে তার বিরুদ্ধে জোরালো রাস্তার আন্দোলন বা আইনি লড়াই তে UUPTWA লড়াই জারি রেখেছে।
সংগঠনের সদস্য গভঃ বডি সদস্য তন্ময় ঘড়ুই তার সুচিন্তিত বক্তব্য তুলে ধরেন। কোলকাতা তথা দিল্লীর বুকে নানা আন্দোলনে এই জেলার বিশেষ ভূমিকা বা অবদান তা নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন।
গভঃ বডির অপর সদস্য ভবেশ রায় বহু বিশিষ্ট মহাপুরুষ, সমাজ সংস্কারক, সাহিত্যিক ও বিপ্লবীরদের জন্মস্থান হিসাবে পূণ্যভূমি হুগলীর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। প্রসঙ্গত এই জেলায় রাজা রামমোহন রায়, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব,হাজী মুহম্মদ মহসিন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রভৃতি মহামানবগণ জন্মগ্রহণ করেছেন। তাই তাদের মত ও পথে বলিয়ান হয়ে তাদের সংগঠন এগিয়ে চলবেই এমন ধারণা পোষণ করেন।
সংগঠনের সহঃ সম্পাদক মাননীয় নির্ঝর কুন্ডু তার বক্তব্যে বলেন শিক্ষক, ডাক্তার, নার্স, অধ্যাপক, সমস্ত স্তরের কর্মাচারীদের যৌথ মঞ্চ তথা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলো প্রাথমিক শিক্ষকদের সংগঠন UUPTWA। এই সংগঠনের মাধ্যমেই এ রাজ্যে এমনকি দেশে সমাজ মাধ্যম যেমন- ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা টুইটারে UUPTWA এখন ট্রেন্ডিং।
তিনি জোরের সঙ্গে বলেন তারা কোন দলগত রাজনীতি করেন না। একমাত্র শিক্ষা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রাজনীতিই তাদের সংগঠন করে থাকেন।
রাজ্য নেতৃত্ব নতুন জেলা কমিটি গঠনের জন্য বিভিন্ন সদস্যের নাম প্রস্তাব করেন ও উপস্থিত প্রতিনিধিদের সমর্থনে নবতম কমিটি গঠিত হয়। এরপর সংগঠনের সম্পাদক তথা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মূখ্য আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ তার মূল্যবান বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি জোরালো কন্ঠে নিরপেক্ষ থাকার প্রাসঙ্গিকতা এবং ঠিক কে ঠিক ও ভুল কে ভুল বলার পক্ষে সওয়াল করেন।
তিনি এ রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা সমস্যা সমাধানের বিষয় আলোকপাত করেন। নোশনাল মামলা জয়ের জন্য আর দুএকটি কোর্টের শুনানীই যথেষ্ট বলে অভিমত প্রকাশ করেন। সঙ্গে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে এই বিষয়ে সন্তোষজনক সাক্ষাৎকারের খবরটি বলেন। তার পরামর্শ মতো এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরব হতে চলেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক সমেত সমস্ত গ্রান্ট ইন এ্যড এর কর্মচারীরা এমনকি প্যারাটিচারদের জন্য ক্যাশলেস WBHS স্বাস্থ্যবীমার আওতায় আনার তীব্র দাবী করেন। তিনি আশাবাদী সরকার এই বিষয়ে সচেষ্ট হবেন। তবে এই মুহুর্তের সবচেয়ে বড় সমস্যা টেট পরীক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে সরকারী প্রয়াসের তীব্র সমালোচনা করেন। তার দাবী ডিএ এর দাবীর মতো টেট কেও তিনি রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে ছাড়বেন। কারণ এটাই একমাত্র টেট ইস্যু সমাধানের রাস্তা বলে তিনি মনে করেন। তিনি পুরাতন সরকারের আমলের মতো অফিসে অফিসে ভয়ের পরিবেশ তৈরীর একই রকম প্রচেষ্টা চলছে বলে দাবী করেন। এই বিষয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ দাবী করেন।
এরপর পুরাতান কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি তৈরীর প্রক্রিয়া চলে। নতুন কমিটির জন্য রাজ্য নেতৃত্ব শিক্ষক শিক্ষকাদের নাম প্রস্তাব করেন ও সভায় আগত সমস্ত জেলা সদস্য- সদস্যাদের মতামত নেওয়ার পরে নতুন কমিটি গঠিত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য আগামীদিনে নতুন করে আরামবাগ জেলা গঠিত হওয়ার জন্য আরামবাগ জেলায় সংগঠনের কাজ পরিচালনা করতে এ্যডহক্ কমিটি তৈরী হয়। নতুন হুগলী জেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন জয়ন্ত গুপ্ত এবং সম্পাদক কৌশিক মন্ডল।
শেষে সমবেত জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে সভার কাজ শেষ হয়। অত্যন্ত সংগঠিত ভাবে এই সম্মেলন সফল ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় রাজ্য কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেন।