কলকাতা, সংবাদ একলব্য: অন্নপূর্ণা যোজনার অগস্টের টাকা ঢুকবে যোগ্য প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে অর্থাৎ ১৭ই সেপ্টেম্বর। সোমবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একথা জানান। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলাকে এই টাকা দেওয়া হবে। আবার নভেম্বর-ডিসেম্বরে অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ সরকারের অন্য সব জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে আবেদনের সুযোগ মিলবে।
বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদান
সোমবার নবান্নে বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থ তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য সরকারের এই ভাতাগুলি আগে ১,০০০ টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে ৮৩ লক্ষ ৫ হাজার ৯১৯ জন প্রাপকের জন্য বছরে সরকারের খরচ হচ্ছে ১৪,৭৭১ কোটি টাকা।
অন্নপূর্ণা যোজনা ও প্রতিবন্ধী মহিলাদের বিশেষ স্বস্তি
রাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আওতায় অন্নপূর্ণা যোজনার বিস্তৃতি আরও বাড়ানো হয়েছে:
মাসে ৩,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে: আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় থাকা ১ কোটি ৪৮ লক্ষ যোগ্য মহিলাকে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী মহিলাদের দ্বিগুণ সুবিধা: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিশেষ ভাবে সক্ষম (প্রতিবন্ধী) মহিলারা এখন থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাও পাবেন। রাজ্যজুড়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩৪ হাজার বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলা প্রতি মাসে সব মিলিয়ে সাড়ে চার হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
বিধবা ভাতার রূপান্তর: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি বিধবা মহিলাদের বিধবা ভাতা ছেড়ে অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে তাঁরা মাসে ১,৫০০ টাকার পরিবর্তে সরাসরি ৩,০০০ টাকা পাবেন।
নভেম্বর-ডিসেম্বরে নতুন ‘জনকল্যাণ শিবির’
আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভা স্তরে নতুন করে ‘জনকল্যাণ শিবির’ বসবে। এই নতুন শিবিরগুলিতেই অন্নপূর্ণা যোজনা সহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে নতুন আবেদনের সুযোগ মিলবে।
ভাতা জালিয়াতি রোধ ও পুরনো 'ওয়েটিং লিস্ট' বাতিল
ভাতা প্রদান অনুষ্ঠানে ভুয়ো আবেদনকারী ও জালিয়াতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। চন্দ্রকোনায় এক পুরুষ ব্যক্তির বিধবা ভাতা নেওয়ার উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বয়স ভাঁড়িয়ে ও ভুয়ো শংসাপত্র দিয়ে অনেকে জালিয়াতি করছেন। এমন অযোগ্যদের অবিলম্বে সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিগত সরকারের আমলের সমস্ত জমে থাকা অপেক্ষমাণ তালিকা (Waiting List) বাতিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।