শিলিগুড়ি: আসন্ন দুর্গাপুজোকে (Siliguri Durga Puja) কেন্দ্র করে শহর জুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল শিলিগুড়ি পুলিশ ও প্রশাসন। বুধবার পুজোর প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মণ্ডপের পরিকাঠামো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নারী সুরক্ষা এবং রাতের পাহারার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা (Siliguri Police Commissioner), ডিসিপি (ট্রাফিক) কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ, ডিসিপি (হেডকোয়ার্টার) তন্ময় সরকার, ডিসিপি চারু শর্মা সহ রেলওয়ের এসআরপি, এসএসবি, বিএসএফ এবং জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ির মহকুমাশাসকরা (Darjeeling News Bengali)।
মণ্ডপের নিরাপত্তা ও নারী সুরক্ষায় বিশেষ জোর
প্রশাসনের কড়া নির্দেশ, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি পুজো মণ্ডপে সিসিটিভি (CCTV Night Guard) ক্যামেরা এবং রাতের বেলায় পাহারার জন্য নাইট গার্ড রাখা বাধ্যতামূলক। রাতের দিকে শহর এবং পুজো মণ্ডপ সংলগ্ন এলাকাগুলিতে পুলিশের বিশেষ টহলদারি চলবে। পাশাপাশি, উৎসবের দিনগুলিতে মহিলাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রাস্তায় মোতায়েন থাকবে পুলিশের বিশেষ প্রমিলা বাহিনী 'দুর্গাবাহিনী' এবং 'উইনার্স টিম' (Durga Puja Security Guidelines)।
মণ্ডপ নির্মাণ ও বিসর্জনের গাইডলাইন
পুজো কমিটিগুলির জন্য মণ্ডপ নির্মাণের (Pandal Rules) ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
- মণ্ডপের উচ্চতা কোনোভাবেই ৪০ ফুটের বেশি হওয়া চলবে না।
- জরুরি পরিস্থিতিতে যাতায়াতের জন্য প্রবেশপথের চওড়া মাপ রাখতে হবে ন্যূনতম ১২ ফুট।
- প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক।
- থার্মোকল ব্যবহারে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় পুজো কমিটিগুলিকে জৈবপচনশীল সামগ্রী ব্যবহারের আবেদন জানানো হয়েছে।
- প্রতিমা নিরঞ্জন বা বিসর্জনের সময় কোনোভাবেই ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না।
শিলিগুড়ি করিডোর ও পুজো সংখ্যা
প্রশাসন সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ৬০০ থেকে ৬৫০টি পুজো কমিটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং নতুন কমিটিগুলিকে অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সব মিলিয়ে এ বছর শিলিগুড়িতে প্রায় এক হাজারটি পুজো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিলিগুড়ির ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এদিন ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ নিয়েও আলোচনা হয়। পুলিশ কমিশনার জানান, নিরাপত্তার খাতিরে বিএসএফ ও এসএসবি আধিকারিকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সমন্বয় রেখে চলা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যম নিয়ে পুলিশ কমিশনারের সতর্কবার্তা
পুজোর ছুটিতে অনেকেই সপরিবারে ঘুরতে যান। এই বিষয়ে শহরবাসীর উদ্দেশ্যে পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাড়ি ফাঁকা রেখে কোথাও গেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই সংক্রান্ত ছবি বা তথ্য লাইভ আপডেট করবেন না। কারণ, এই ধরনের বার্তা থেকে দুষ্কৃতীরা সহজেই বুঝে নিতে পারে যে বাড়িটি ফাঁকা রয়েছে, যার ফলে চুরির আশঙ্কা বাড়ে। তাই নিজের সম্পত্তির সুরক্ষার স্বার্থে এই ধরনের পোস্ট করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. শিলিগুড়িতে পুজো মণ্ডপের ক্ষেত্রে পুলিশের নতুন নির্দেশিকা কী?
পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, শিলিগুড়ির প্রতিটি পুজো মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং রাতের পাহারার জন্য নাইট গার্ড রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া মণ্ডপের উচ্চতা ৪০ ফুটের বেশি হবে না এবং প্রবেশপথ ১২ ফুট চওড়া হতে হবে।
২. প্রতিমা বিসর্জনের ক্ষেত্রে কী নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে?
পরিবেশ ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিমা বিসর্জন বা নিরঞ্জনের সময় কোনোভাবেই ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না।
৩. দুর্গাপুজোর ছুটিতে ঘুরতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে পুলিশের কী সতর্কবার্তা রয়েছে?
শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সতর্ক করে জানিয়েছেন, বাড়ি ফাঁকা রেখে ঘুরতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা তথ্য লাইভ আপডেট করা উচিত নয়। এতে দুষ্কৃতীরা সহজে ফাঁকা বাড়ির হদিস পেয়ে চুরির ছক কষতে পারে।