মা আসছে ...

নির্বাচনে ১০০ শতাংশ কারচুপি হয়েছে! জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক রাহুল গান্ধী

Rahul Gandhi claims 100 percent election irregularities questions EC
Graphics: SE

নয়াদিল্লি: দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়ে এবার সাংবাদিক সম্মেলনে (Rahul Gandhi Press Conference) বিস্ফোরক দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে ব্যাপক কারচুপি (EVM Rigging Allegations) হয়েছে এবং এটি প্রমাণ করার মতো ১০০ শতাংশ নিশ্চিত তথ্য ও প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে। রাহুল স্পষ্ট জানান, এই বিষয়টিকে তিনি নিছক নির্বাচনী ইস্যু হিসেবে দেখছেন না, বরং এটি সরাসরি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে জড়িত।

'ভোট শেষ হলে সংবিধান কাজ করবে না'

নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) নিরপেক্ষতা ও ভূমিকা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের মানুষের ভোটের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যদি ভোটিং ব্যবস্থা দুর্বল বা প্রভাবিত হয়, তবে দেশের সংবিধান তার মূল শক্তি হারায়। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের আইন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর। তাঁর মতে, ভোটের নিরাপত্তায় গাফিলতি শুধুমাত্র নির্বাচনের দিনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা সমগ্র গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে ধ্বংস করে দেয়।

অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি এবং একনায়কতন্ত্রের তুলনা

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে ধারাবাহিকভাবে তাদের নির্বাচনী সাফল্যের দিকে ইঙ্গিত করে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া (অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি) নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সাধারণত ভারতে যেকোনো সরকারের বিরুদ্ধেই একটা প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া দেখা যায়। কিন্তু এই রাজ্যগুলিতে কীভাবে সেই হাওয়া সম্পূর্ণভাবে গায়েব হয়ে যাচ্ছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়। এরপরই তিনি ইরাক ও উত্তর কোরিয়ার উদাহরণ টেনে কটাক্ষ করে বলেন, যেখানে গণতন্ত্র থাকে না, সেখানে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সিরও কোনো অস্তিত্ব থাকে না (National News Bengali)।

'ভোট চুরি থেকে আইন চুরি, তারপর প্রতিষ্ঠান চুরি': রাহুল গান্ধী তাঁর বক্তব্যে একটি শৃঙ্খলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, যদি নির্বাচনে ভোটের সঙ্গে কারচুপি করা হয় এবং সেই জাল ভোটের ভিত্তিতে সাংসদরা নির্বাচিত হন, তবে সেই সাংসদদের দ্বারা তৈরি করা আইন এবং প্রাতিষ্ঠানিক রদবদলগুলিও বৈধতা হারায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আগামী দিনে তাঁর এই দাবিগুলি দেশবাসীর সামনে সম্পূর্ণ স্পষ্ট হয়ে যাবে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে খোদ কমিশনারদের ক্ষোভ!

শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়াই নয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC Gyanesh Kumar) জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়েও এদিন গুরুতর অভিযোগ তোলেন রাহুল। তিনি দাবি করেন, স্বয়ং নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই জ্ঞানেশ কুমারের কাজকর্ম এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার প্রশ্ন তুলেছেন। প্রসঙ্গত, 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টের ভিত্তিতে এই দাবি করা হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা, নতুন ভোটারদের রেজিস্ট্রেশন এবং ডেটা অ্যাক্সেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নির্বাচন কমিশনের গৃহীত কিছু প্রক্রিয়ার ওপর একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছিলেন অপর দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী।

যদিও, নির্বাচন কমিশন এই মতবিরোধকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ফাটল হিসেবে মানতে নারাজ। কমিশনের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ভিন্ন মত বা আলোচনা একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অংশ এবং সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি

এই বিস্তর অভিযোগের পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন মানুষের ভোটের সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে গুরুদায়িত্ব পেয়েছিল, তা পালনে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। রাহুল স্পষ্ট জানান, তাঁর কাছে ‘ভোট চুরি’ প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে এবং যাঁরা দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। উল্লেখ্য, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এর আগেও সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছিল।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করেছেন?

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে ১০০ শতাংশ কারচুপি হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

২. মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কী দাবি উঠেছে?

রাহুল গান্ধী অবিলম্বে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, কমিশনের অন্দরেই অন্য দুই কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

৩. 'ভোট চুরি থেকে প্রতিষ্ঠান চুরি' বলতে রাহুল গান্ধী কী বুঝিয়েছেন?

রাহুল গান্ধীর মতে, কারচুপির মাধ্যমে তৈরি হওয়া জাল ভোটের ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকার যে আইন তৈরি করে, তার কোনো বৈধতা থাকে না। এভাবেই ভোট চুরির মাধ্যমে ক্রমশ দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধ্বংস করা হচ্ছে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in