কোচি: মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের অভাব নিয়ে বিজেপি এবং কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন এআইএমআইএম (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। মঙ্গলবার কোচিতে (Asaduddin Owaisi Speech in Kochi) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, জওহরলাল নেহরু থেকে শুরু করে নরেন্দ্র মোদী পর্যন্ত দেশের প্রতিটি সরকার মুসলিম সম্প্রদায়কে সমান রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা না করে নিছক 'ভোটব্যাঙ্ক' এবং 'শো-বয়' বা লোকদেখানো বস্তুতে পরিণত করেছে। হায়দরাবাদের এই সাংসদের দাবি, ভারতের কোনো রাজনৈতিক দলই চায় না মুসলমানদের নিজস্ব স্বাধীন রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতা তৈরি হোক। সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা বলা হলেও, ভারতের শাসক দলগুলো মুসলিমদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করে তাদের অগ্রগতিতে বাধা দিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন (Owaisi attacks BJP Congress)।
মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন
দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মুসলিমদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ওয়াইসি (AIMIM Chief Owaisi) বলেন, ১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশে সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব মাত্র ৪ শতাংশ। তাঁর আক্ষেপ, ব্রাহ্মণ, ঠাকুর বা দলিতদের মতো অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ যখন নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও নেতৃত্ব তৈরি করতে পেরেছেন, তখন মুসলিমদের সেই সুযোগ থেকে সচেতনভাবে বঞ্চিত রাখা হয়েছে (Muslim Political Representation India)।
'শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই ব্যবহার করা হয়'
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বুলডোজার নীতি, মসজিদ ইস্যু বা এনকাউন্টারের মতো বিষয়গুলি মুখ বুজে সহ্য করে নির্বাচনের সময় শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই মুসলিমদের ব্যবহার করা হয়। তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি জানান, ভোট চাওয়ার পরও এই দলগুলো মুসলিমদের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর মতো ন্যুনতম 'বৌদ্ধিক সততা' তাদের নেই।
কম খারাপ দল বাছতে বাধ্য হন মুসলিমরা
মুসলিমরা ঐতিহ্যগতভাবে কংগ্রেসকে ভোট দেয়, এই ধারণার উত্তরে ওয়াইসি স্পষ্ট করেন যে, কার্যকর বিকল্প না থাকায় মুসলিমরা মূলত দুটি খারাপ দলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম খারাপ দলটিকে বেছে নিতে বাধ্য হন। তাঁর অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করা দলগুলো শুধুমাত্র সম্প্রদায়ের ভোট চায়, কিন্তু স্বাধীন মুসলিম রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থানকে সবসময় বাধা দেয়। ওয়াইসি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা কোনোভাবেই কেবল একটি নির্বাচনী স্লোগান হতে পারে না; প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে মুসলিমদের শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে না দেখে তাদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর বিকাশের সুযোগ দেওয়া অপরিহার্য (National Political News Bengali)।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. কোচিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি কী অভিযোগ করেছেন?
এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি অভিযোগ করেছেন যে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলি মুসলিমদের সমান রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা না করে কেবল 'ভোটব্যাঙ্ক' এবং 'শো-বয়' হিসেবে ব্যবহার করেছে।
২. ভারতের সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ওয়েইসি কী বলেছেন?
ওয়েইসি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে ১৮ কোটি জনসংখ্যার এই দেশে সংসদে মুসলিম প্রতিনিধিত্ব মাত্র ৪ শতাংশ, যা অন্যান্য সম্প্রদায়ের তুলনায় অনেক কম।
৩. তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর সমালোচনা করে ওয়েইসি কী বলেছেন?
তাঁর অভিযোগ, ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি করা দলগুলো শুধুমাত্র মুসলিমদের ভোট চায়, কিন্তু তাদের স্বাধীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের উত্থানকে সবসময় বাধা দেয়।