সমীর হোসেন, দিনহাটা: বাজারের এক নৈশ্য প্রহরীকে মারধোরের ঘটনায় দফায় দফায় পথ অবরোধে উত্তাল হয়ে উঠল দিনহাটার নিগমনগর এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদের সকাল থেকে রীতিমতো দোকানপাট বন্ধ করে পথ অবরোধের শামিল হন নিগমনগর বাজারের ব্যবসায়ীরা। প্রথম দফায় পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠে গেলেও, ফোনে বাজার ব্যবসায়ীর সম্পাদক সুবল চন্দ্র বর্মনকে এক পুলিশ আধিকারিকের হুমকির প্রতিবাদে ফের অনির্দিষ্টকালের জন্য পথ অবরোধ শুরু হয়। পরে দিনহাটা থানার আইসি বুদ্ধেশ্বর রায় ঘটনা স্থলে ছুটে যান এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠে যায়। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ থাকে।
ঠিক কি ঘটেছে?
ঘটনার বিবরণে জানা গিয়েছে, দিনহাটার নিগমনগর বাজারে বেশ কিছুদিন ধরেই দুষ্কৃতিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছিল। মাঝেমধ্যেই বাজারের দোকানপাটে চুরির ঘটনা ঘটে আসছিল। এ ধরনের এক পরিস্থিতিতে বাজারের ব্যবসায়ীরা মিলিতভাবে নৈশ্য পাহারার জন্য বেশ কয়েকজন যুবককে নিয়োগ করে। তাদের পারিশ্রমিক ব্যবসায়ীরা দিয়ে থাকেন। শুক্রবার রাতে একদল রীতিমতো মোটর বাইক নিয়ে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতি নিগমনগর বাজারে যায়। তারা নৈশ প্রহরীকে হেনস্তার শুরু করে এবং তাদেরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। সকালে এই ঘটনা ব্যবসায়ীরা জানতে পেরে এর প্রতিবাদ শুরু করে। দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নিগমনগর বাজারে তারা পথ অবরোধ শুরু করে। ফলে দিনহাটা- চৌধুরীহাট রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে দিনহাটা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। পুলিশের আশ্বাসে প্রথম দফায় অবরোধ উঠে যায়।
ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদককে হুমকির অভিযোগ
এদিকে দিনহাটা থানার জনৈক আধিকারিক নিগমনগর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সুবল চন্দ্র বর্মনকে টেলিফোনে কথা বলেন এবং তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে ব্যবসায়ীরা জানতে পেরে ফের বাজারের দোকানপাট বন্ধ করে তারা পথ অবরোধ শুরু করে। খবর পেয়ে দিনহাটা থানার আইসি বুদ্ধেশ্বর রায় ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিলে অবরোধ উঠে যায়।
কি জানালেন সম্পাদক?
এ বিষয়ে বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে নিগমনগর বাজারে বিভিন্ন দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে আসছিল। পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। তাইতো ব্যবসায়ীরা বেশ কয়েকজনকে বাজারের রাতে পাহারার জন্য নিয়োগ করে। তাদের পারিশ্রমিক ব্যবসায়ীরা দিয়ে থাকেন। এদিন রাতে একদল দুষ্কৃতী সেই নৈশ্য প্রহরীকে মারধর করে। এর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা পথ অবরোধ করেন। বিষয়টি এক সময় মিটে গিয়েছিল। কিন্তু দিনহাটা থানার জনৈক আধিকারিক আমাকে রীতিমতো হুমকি দেয়। এর বিরুদ্ধে পুনরায় অবরোধ শুরু হয়। পরে অবশ্য দিনহাটা থানার আই সি এসে আলোচনা করেন এবং আপাতত সমস্যা মিটে যায়।