নয়াদিল্লি: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মীয় স্থান ভাঙা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ সভার ডাক দিলেন পিডিপি (PDP) নেত্রী মেহবুবা মুফতি (Mehbooba Mufti Jantar Mantar Protest)। দেশের সমস্ত "ধর্মনিরপেক্ষ" নাগরিককে এই প্রতিবাদে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, ওইদিন দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ধর্না কর্মসূচি চলবে।
মেহবুবা মুফতির বিস্ফোরক অভিযোগ ও আবেদন
সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে মেহবুবা মুফতি দেশের অ-মুসলিম এবং ধর্মনিরপেক্ষ মানুষদের এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আপনারা জানেন যে আজ আমাদের দেশে অত্যন্ত নির্মমভাবে মসজিদ, মাজার এবং গির্জা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এর পাশাপাশি যে নতুন ভোটার তালিকা তৈরি হচ্ছে, সেখান থেকে বিরোধী দলের সমর্থক, ধর্মনিরপেক্ষ মানুষ এবং বিশেষ করে মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।"
দেশের গণতন্ত্র, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং 'গঙ্গা-যমুনা তেহজিব' রক্ষার্থেই এই ধর্নার ডাক দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি (National News Bengali)।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
মুফতির এই অভিযোগ (Voter List Deletion Controversy) এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) দেশজুড়ে 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' বা ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চালাচ্ছে। শুধুমাত্র দিল্লিতেই ৩১ লক্ষের বেশি ভোটারের কাছে তথ্য যাচাইয়ের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই যাচাইয়ের নোটিশ প্রাপকদের তালিকায় খোদ বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং সিবিআই ডিরেক্টর প্রবীণ সুদ-এর মতো শীর্ষ আধিকারিকরাও রয়েছেন। তবে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গিয়েছে বা তাঁকে অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে; এটি মূলত নথি ও তথ্য যাচাইয়ের একটি সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া মাত্র।
যন্তর মন্তরে কারা আয়োজন করছে এই প্রতিবাদ সভা?
যন্তর মন্তরের এই প্রতিবাদের আয়োজক হলো 'ন্যাশনাল মনিটরিং কমিটি' (National Monitoring Committee)। মূলত 'ইন্ডিয়ান মুসলিমস ফর সিভিল রাইটস'-এর উদ্যোগে গঠিত ৫১ সদস্যের এই কমিটিতে মেহবুবা মুফতি ছাড়াও রয়েছেন ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি ফারুক আবদুল্লা, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সলমান খুরশিদ, দিল্লির প্রাক্তন উপরাজ্যপাল নজীব জং সহ একাধিক প্রাক্তন বিচারপতি, আইনজীবী, সাংসদ ও বিশিষ্ট সমাজকর্মীরা। নাগরিক অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মতো বিষয়গুলি নিয়ে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক পথে লড়াই করাই এই প্যানেলের মূল লক্ষ্য।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. যন্তর মন্তরে মেহবুবা মুফতি কেন ধর্নার ডাক দিয়েছেন?
দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় স্থান ভাঙা এবং ভোটার তালিকা থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মেহবুবা মুফতি এই প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন।
২. ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন কী জানিয়েছে?
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, এটি একটি সাধারণ 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' প্রক্রিয়া। নোটিশ পাঠানোর অর্থ নাম বাতিল হওয়া নয়, বরং এটি কেবল নথি ও তথ্য যাচাইয়ের একটি আইনি ধাপ মাত্র।
৩. এই ধর্না কর্মসূচির আয়োজক কারা?
এই প্রতিবাদের মূল আয়োজক হলো 'ন্যাশনাল মনিটরিং কমিটি', যেখানে মেহবুবা মুফতি ছাড়াও ফারুক আবদুল্লা, সলমান খুরশিদ এবং নজীব জং-এর মতো বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন।