জলপাইগুড়ি: উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে (Jalpaiguri Zilla School) শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত খাওয়া-দাওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, দশম শ্রেণির ছাত্রদের এই বিশেষ খাওয়া-দাওয়ার আওতায় না রাখায় প্রথমে উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্কুল চত্বর রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এবং ক্ষুব্ধ ছাত্রদের প্রবল বিক্ষোভে ও মারধরে প্রধান শিক্ষক (Headmaster Attacked) ধর্মচাঁদ বারুই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, পুলিশ এসে আহত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করতে গেলে ছাত্ররা তাদের পথও আটকায়। অবশেষে বহু চেষ্টার পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পালটা বেধড়ক মারধরের অভিযোগ
অন্যদিকে, এই ঘটনার পর উপস্থিত ছাত্র ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও পাল্টা বেধড়ক মারধর এবং দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন (Student Protest Jalpaiguri)। ছাত্রদের দাবি, শিক্ষক দিবসের দিন তাদের খাওয়ানো হবে বলে জানানো হলেও মিড-ডে মিলের ঘরে তাদের দীর্ঘক্ষণ বিনা কারণে বসিয়ে রাখা হয়। এরপর প্রধান শিক্ষক হঠাৎ ছুটে এসে বিনা কারণে কয়েকজন ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ।
- এক ছাত্রকে গলা চেপে ধরে দেওয়ালে ঠেসে মারা এবং আরেকজনকে ঘাড় ধরে ঘুষি মারার অভিযোগও উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
- পাশাপাশি, ছাত্রদের না খাইয়ে রান্নার কর্মীরা বালতি করে খাবার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলেও ছাত্ররা অভিযোগ করেছে।
- প্রকৃত সত্য সামনে আনতে স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া
উপস্থিত ক্ষুব্ধ অভিভাবকরাও এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এক অভিভাবক অভিযোগ করেন যে, প্রধান শিক্ষকের মারধরে এক ছাত্রের নাক-মুখ ফেটে রক্ত বেরিয়েছে এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষকের এই আচরণকে 'গুন্ডাগিরি' আখ্যা দিয়ে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এহেন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয় (West Bengal School News)। শিক্ষক দিবসের মতো পবিত্র দিনে এই ঘটনা জলপাইগুড়ি শহরে (Jalpaiguri News) তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে কী ঘটনা ঘটেছে?
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত খাওয়া-দাওয়াকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়, যেখানে ছাত্রদের মারে প্রধান শিক্ষক রক্তাক্ত হন এবং ছাত্ররাও পালটা মারধরের অভিযোগ তোলে।
২. ছাত্রদের মূল অভিযোগ কী ছিল?
ছাত্রদের অভিযোগ, তাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে খাবার দেওয়া হয়নি, উলটে রান্নার কর্মীরা খাবার বাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং প্রতিবাদ করায় প্রধান শিক্ষক বিনা কারণে কয়েকজন ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করেন।
৩. আহত প্রধান শিক্ষককে কারা উদ্ধার করে?
খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ছাত্ররা পুলিশের পথ আটকালেও, বহু চেষ্টার পর পুলিশ আহত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।