মা আসছে ...

২০১৯ সালে বিজেপির টিকিটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বর্তমান CEC ! প্রাক্তন আমলার দাবিতে সরব রাহুল

CEC Gyanesh Kumar Controversy Jiji Thomson BJP Ticket Rahul Gandhi
Graphics: SE

নয়াদিল্লি/তিরুবনন্তপুরম: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যসচিব জিজি থমসনের একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। তাঁর দাবি, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar Controversy) একসময় তাঁকে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই বিস্ফোরক দাবির পর নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসরে নেমেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi on Election Commission)।

কী দাবি করেছেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যসচিব জিজি থমসন?

কেরলের প্রাক্তন শীর্ষ আমলা জিজি থমসনের দাবি, ঘটনাটি ২০১৬ সালের। সেই সময় তিনি এবং জ্ঞানেশ কুমার একসঙ্গে বিমানে দিল্লি যাচ্ছিলেন। জ্ঞানেশ কুমার (যিনি ১৯৮৮ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক) সেই সময় সরকারি পদে কর্মরত ছিলেন।

থমসনের কথায়, অবসরের পর তিনি শিশুদের নিয়ে একটি প্রজেক্টে কাজ করতে চান বলে জ্ঞানেশ কুমারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু জ্ঞানেশ তাঁকে অন্য একটি পথ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন। থমসন দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে কেরলের পথনমথিট্টা (Pathanamthitta) কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে (Jiji Thomson BJP Ticket Offer) লোকসভা ভোটে লড়াই করার প্রস্তাব দেন। তাঁকে বলা হয়েছিল, তিনি ভোটে জিতে সাংসদ এবং পরে মন্ত্রীও হতে পারবেন। যদিও থমসন জানান, তিনি তৎক্ষণাৎ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আইএএস পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জ্ঞানেশ কুমার।

নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ রাহুল গান্ধীর

থমসনের এই দাবির সূত্র ধরেই জ্ঞানেশ কুমার এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এক্স (X) হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, "প্রথমে একজন কর্মরত আইএএস আধিকারিক হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারকে দিয়ে বিজেপির জন্য প্রার্থী খোঁজার কাজ করানো হয়েছিল। এরপর মোদী ও শাহ তাঁকে আম্পায়ার বানিয়ে ভারতের নির্বাচনে 'ম্যাচ-ফিক্সিং'-এর দায়িত্ব দিয়েছেন।"

কেরল কংগ্রেসের তরফ থেকেও এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। একজন কর্মরত আইএএস আধিকারিক কীভাবে কাউকে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন এবং তাঁকে কে এই প্রস্তাব দেওয়ার অধিকার দিয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা (National News Bengali)।

নির্বাচন কমিশনের অন্দরের বিতর্ক এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট

এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর এক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার বিভিন্ন সিদ্ধান্তে আপত্তি (Objection) জানিয়েছেন। ভোটার তালিকাভুক্তি, নাম বাতিল এবং ৬ নম্বর ফর্মের (Form 6) সঙ্গে যুক্ত ডিক্লারেশনের বিষয়ে তাঁদের অজান্তেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

কী বলছে নির্বাচন কমিশন?

  • নির্বাচন কমিশন এই বিভাজনের বা মতবিরোধের তত্ত্ব খারিজ করে দিয়েছে।
  • কমিশনের বক্তব্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আলোচনার সময় মতপার্থক্য হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে SIR সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সর্বসম্মতিক্রমেই (Unanimous) নেওয়া হয়েছিল।
  • কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ৬ নম্বর ফর্মে কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। নিয়ম মেনেই ভোটারদের বাবা বা ঠাকুরদার তথ্য একটি পৃথক ফর্মে (অ্যানেক্সার ডি) জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল এবং এই নির্দেশিকা তিন কমিশনারই সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছিল।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. কেরলের প্রাক্তন মুখ্যসচিব জিজি থমসন বর্তমান সিইসি-র বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করেছেন?

জিজি থমসন দাবি করেছেন যে ২০১৬ সালে একটি বিমানযাত্রার সময় বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (যিনি তখন আইএএস আধিকারিক ছিলেন) তাঁকে বিজেপির টিকিটে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

২. জিজি থমসনের এই দাবির পর রাহুল গান্ধী কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন?

রাহুল গান্ধী এই দাবি তুলে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমারকে দিয়ে বিজেপি প্রার্থী খোঁজার কাজ করিয়েছে এবং পরে তাঁকে 'আম্পায়ার' বানিয়ে নির্বাচনে 'ম্যাচ-ফিক্সিং'-এর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

৩. নির্বাচন কমিশনের অন্দরে 'স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন' (SIR) নিয়ে কী বিতর্ক চলছে?

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয় যে, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অন্যান্য দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, সমস্ত সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমেই নেওয়া হয়েছিল।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in