মা আসছে ...

ব্রিকসের জোড়া ফলায় কাঁপছে আমেরিকা! ডলারের আধিপত্য খর্ব ও জ্বালানি সংকট মেটাতে বড় পদক্ষেপ, চিন্তায় ট্রাম্প

BRICS Summit 2026 De-dollarization Crude Oil LPG crisis Trump worried
Graphics: SE

নয়াদিল্লি: বিশ্বজুড়ে চলা জ্বালানি সংকট এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে একজোট হচ্ছে ব্রিকস (BRICS) ভুক্ত দেশগুলি। সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনে (BRICS Summit 2026) অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) এবং এলপিজি (LPG Crisis) সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্ববাণিজ্যে মার্কিন ডলারের দাপট কমানোর বিষয়ে এক ঐতিহাসিক রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত পেয়েই রীতিমতো চিন্তায় পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প-সহ আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্ব।

জ্বালানি সংকট মেটাতে ব্রিকসের মাস্টারস্ট্রোক

রাশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেল উৎপাদক দেশগুলি এখন ব্রিকসের সদস্য। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন আমেরিকা-ইরান সংঘাতের জেরে অপরিশোধিত তেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তখন এই দেশগুলি নিজেদের মধ্যে বিকল্প সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ শৃঙ্খল তৈরির ওপর জোর দিচ্ছে।

  • ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলি চাইছে পশ্চিমা দেশগুলির নিয়ন্ত্রণাধীন বাণিজ্য ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সুলভে তেল ও গ্যাস সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে।
  • এর ফলে ভারতের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলি তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল এবং এলপিজি পাওয়ার সুযোগ পাবে, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম (Crude Oil Price) নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।

ডলারের আধিপত্যে সরাসরি আঘাত (ডি-ডলারাইজেশন)

ব্রিকস সম্মেলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো 'ডি-ডলারাইজেশন' (De-dollarization) বা বিশ্ববাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ব্যবহার কমানো। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে তেল কেনাবেচা মূলত ডলারে (পেট্রো-ডলার) হয়ে আসছে, যা মার্কিন অর্থনীতিকে একচ্ছত্র আধিপত্য দিয়েছে।

বর্তমান সম্মেলনে সদস্য দেশগুলি নিজেদের স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য করার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করেছে। নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম বা বিকল্প আর্থিক পরিকাঠামো তৈরির মাধ্যমে ব্রিকস চাইছে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটাতে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের ব্যবহার কমলে তা আমেরিকার অর্থনীতির জন্য এক চরম অশনিসংকেত।

ট্রাম্পের চিন্তার মূল কারণ কী?

ব্রিকসের এই আগ্রাসী অর্থনৈতিক কৌশল নিয়েই উদ্বিগ্ন ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump Statement on BRICS)। তিনি বরাবরই মার্কিন ডলারকে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও অর্থনীতির প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখে এসেছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলি যদি ডলারের বিকল্প তৈরি করে ফেলে, তবে বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার ক্ষমতা তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মতো অপরিহার্য পণ্যের বাজার যদি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তবে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধস নামাতে পারে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই ব্রিকস সম্মেলন বিশ্ব অর্থনীতির ভরকেন্দ্র পুরোপুরি বদলে দেওয়ার এক শক্ত ভিত তৈরি করছে (International News Bengali)।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের মূল লক্ষ্য কী?

২০২৬ সালের ব্রিকস সম্মেলনের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাণিজ্যে মার্কিন ডলারের দাপট কমানো (ডি-ডলারাইজেশন) এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থায় সুলভে জ্বালানি সরবরাহ সুনিশ্চিত করা।

২. ডি-ডলারাইজেশন (De-dollarization) কী?

ডি-ডলারাইজেশন হলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের স্থানীয় মুদ্রা বা বিকল্প কোনও মুদ্রা ব্যবহার করার প্রক্রিয়া।

৩. ব্রিকসের পদক্ষেপে আমেরিকা কেন চিন্তিত?

ব্রিকস ভুক্ত দেশগুলি ডলারের বিকল্প তৈরি করলে এবং জ্বালানির বাজার নিয়ন্ত্রণ করলে বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার একচ্ছত্র অর্থনৈতিক ক্ষমতা খর্ব হবে, যা মার্কিন অর্থনীতিতে বড় ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in