কলকাতা: "ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা..."—এই মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে দিয়ে প্রতি বছর বাঙালি বোনেরা তাঁদের ভাই বা দাদাদের দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন। ভাই-বোনের অটুট স্নেহ, পবিত্র বন্ধন ও পারস্পরিক ভালোবাসার উৎসব হল ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া (Bhai Phota 2026 Date Bengali)। হিন্দু ধর্মে দীপাবলি বা কালী পূজার ঠিক দুই দিন পর কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। আপনি যদি ২০২৬ সালের ভাইফোঁটার জন্য আগে থেকেই ছুটি বা অন্যান্য পরিকল্পনা করে রাখতে চান, তবে জেনে নিন আগামী ২০২৬ সালে ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার সঠিক তারিখ ও তিথির সময়সূচি।
২০২৬ সালের ভাইফোঁটার দিনক্ষণ ও শুভ তিথি
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পালিত হবে ১১ নভেম্বর, বুধবার। বাংলা ক্যালেন্ডার (Bengali Calendar 1433) অনুযায়ী দিনটি হল ২৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথির (Bhatri Dwitiya Tithi Timing 2026) বিস্তারিত সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো:
- দ্বিতীয়া তিথি শুরু: ১০ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, দুপুর ২টো ০১ মিনিটে।
- দ্বিতীয়া তিথি শেষ: ১১ নভেম্বর ২০২৬, বুধবার, বিকেল ৩টে ৫৪ মিনিটে।
হিন্দু জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, উদয় তিথি অর্থাৎ সূর্যোদয়ের সময় যে তিথি বর্তমান থাকে, সেই তিথিকেই সারাদিনের পূজাপার্বণ বা শুভ কাজের জন্য ধার্য করা হয়। ১১ নভেম্বর সকালে সূর্যোদয়ের সময় দ্বিতীয়া তিথি থাকায় ওই দিনটিকেই মূল ভাইফোঁটার দিন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। বোন বা দিদিরা ১১ নভেম্বর দুপুর ১২টার আগে বা তিথি শেষ হওয়ার আগে অর্থাৎ বিকেল ৩টে ৫৪ মিনিটের মধ্যে ফোঁটা দেওয়ার পর্ব (Bhai Phota Timing in West Bengal) সেরে ফেলতে পারেন। তবে অঞ্চলভেদে অনেকে প্রতিপদ তিথিতেও ফোঁটা দিয়ে থাকেন।
ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার পৌরাণিক পটভূমি ও রীতিনীতি
ভাইফোঁটা উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মৃত্যুদেবতা যম ও তাঁর বোন যমুনার এক সুন্দর পৌরাণিক আখ্যান। পুরাণ মতে, মৃত্যুর দেবতা যমরাজ তাঁর বোন যমুনার আমন্ত্রণে দীর্ঘকাল পর তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হয়েছিলেন। যমুনা তাঁর দাদাকে পরম যত্নে আপ্যায়ন করে, সুস্বাদু খাবার খাইয়ে তাঁর কপালে ফোঁটা দিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করেছিলেন। যমরাজ বোনের এই আদরে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে আশীর্বাদ করেন যে, কার্তিক মাসের এই শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে যে ভাই তার বোনের হাতে ফোঁটা নেবে, তাকে অকালমৃত্যু বা যমদূতদের ভয় পেতে হবে না। সেই বিশ্বাস থেকেই যুগে যুগে নারীরা ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় এই ব্রত পালন করে আসছেন। এই দিন সকালে বোনেরা স্নান সেরে উপবাস থেকে চন্দন, দই, কাজল ও ধান-দুর্বা দিয়ে ভাইয়ের কপালে তিনবার ফোঁটা দেন। এরপর মিষ্টিমুখ, সুস্বাদু আহার এবং উপহার বিনিময়ের মাধ্যমে উৎসব সম্পূর্ণ হয়।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ভাইফোঁটা
বাংলায় এটি 'ভাইফোঁটা' বা 'ভ্রাতৃদ্বিতীয়া' নামে পরিচিত হলেও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এই উৎসবের নাম ভিন্ন। উত্তর ও মধ্য ভারতে এই উৎসব 'ভাই দুজ' (Bhai Dooj 2026 Date) নামে বহুল প্রচলিত। মহারাষ্ট্র, গোয়া ও গুজরাটে একে 'ভাউবীজ' (Bhau Beej) বা 'ভাই বিজ' বলা হয়। আবার প্রতিবেশী দেশ নেপালে এই উৎসব পরিচিত 'ভাই টিকা' নামে। নাম বা রীতিনীতিতে সামান্য পার্থক্য থাকলেও মূল উদ্দেশ্য একই—ভাই-বোনের চিরন্তন ভালোবাসা ও সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি উদযাপন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ২০২৬ সালে ভাইফোঁটা কবে পালিত হবে?
পঞ্জিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভাইফোঁটা বা ভ্রাতৃদ্বিতীয়া পালিত হবে ১১ নভেম্বর, বুধবার (বাংলা ২৫ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ)।
২. ২০২৬ সালের ভাইফোঁটার শুভ তিথি কখন শুরু হচ্ছে?
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, কার্তিক মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ১০ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ২টো ০১ মিনিটে এবং শেষ হবে ১১ নভেম্বর বিকেল ৩টে ৫৪ মিনিটে।
৩. ভাইফোঁটা উৎসবের পৌরাণিক কারণ কী?
পুরাণ মতে, যমুনার আমন্ত্রণে যমরাজ তাঁর বাড়িতে এসে আপ্যায়িত হন। যমুনা তাঁর কপালে ফোঁটা দিয়ে দীর্ঘায়ু কামনা করলে, যমরাজ আশীর্বাদ করেন যে এই দিনে বোনের হাতে ফোঁটা নেওয়া ভাইকে অকালমৃত্যুর ভয় পেতে হবে না।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন