বক্সিরহাট: কোচবিহার জেলার বক্সিরহাট সংলগ্ন দক্ষিণ রামপুরের জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক অনুমানই সত্যি প্রমাণিত হল। সোমবার ঘটনার পুনর্নির্মাণে পুলিশের সামনে খুনের একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে ধৃত বিক্রমজিৎ কলিতা। এদিন পুলিশি জেরায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, নিছক রাগের বশে নয়, বরং সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই জোড়া খুন করা হয়েছিল।
কীভাবে ছক কষেছিল বিক্রমজিৎ?
তদন্তকারীদের মতে, মাসি ও মেসোর জমানো টাকা লুট করাই ছিল অভিযুক্তের মূল উদ্দেশ্য। সোমবার ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় ধৃত বিক্রমজিতের বয়ান অনুযায়ী পুরো চিত্রটি স্পষ্ট হয়।
- গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে অত্যন্ত সুকৌশলে সে মেসোকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে।
- তাকে দিয়ে দোকান থেকে বিড়ি ও গুটখা কিনে আনানো হয়।
- এরপর মেসো ঘরে ঢোকার সময় পিছন দিক থেকে ভারী ইট দিয়ে তাঁর মাথায় সজোরে আঘাত করে বিক্রমজিৎ।
- মেসোর চিৎকার শুনে মাসি ছুটে এলে, প্রমাণ লোপাট ও টাকা হাতানোর লোভে তাঁর মাথাতেও একইভাবে ইটের আঘাত করে সে।
বন্ধুদের নাম জড়ালেও প্রমাণের অভাবে মুক্তি
তদন্তের শুরুতে ধৃত বিক্রমজিৎ কলিতা পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে তার চার বন্ধুর জড়িত থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ এবং বয়ান যাচাইয়ে তাদের বিরুদ্ধে কোনও শক্ত প্রমাণ না মেলায় পরে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।
যদিও এত বড় জোড়া খুনের ঘটনা একা ঘটানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে এখনও সন্দিহান তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই ঘটনায় নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশি তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ইতিমধ্যেই জোড়া খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিক্রমজিৎ কলিতাকে গ্রেপ্তার করে খুনের মামলা রুজু করেছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত এখনও পূর্ণ মাত্রায় চলছে। পরবর্তীতে নতুন কোনও তথ্য প্রমাণ সামনে এলে সেই অনুযায়ী দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. বক্সিরহাটের দক্ষিণ রামপুরে জোড়া খুনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
ধৃতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মাসি-মেসোর জমানো টাকা লুট করাই ছিল এই জোড়া খুনের মূল উদ্দেশ্য।
২. খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কে?
পুলিশি তদন্তে মূল অভিযুক্ত হিসেবে ধৃত বিক্রমজিৎ কলিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।
৩. খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র কী ছিল?
অভিযুক্ত বিক্রমজিৎ ভারী ইট দিয়ে আঘাত করে তার মাসি ও মেসোকে নৃসংশভাবে খুন করে বলে ঘটনার পুনর্নির্মাণে স্বীকার করেছে।