মা আসছে ...

সীমান্তে BSF-এর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হস্তক্ষেপ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলে জেলা শাসককে ডেপুটেশন এপিডিআর-এর

Cooch Behar APDR deputation to DM against BSF at Tufanganj Jhaukuti border
Graphics: SE

নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার: কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ সীমান্ত সংলগ্ন ঝাউকুটি সহ বিভিন্ন এলাকায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে হস্তক্ষেপ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলল 'গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি' (APDR)। কৃষকদের আপত্তির তোয়াক্কা না করে গ্রামের ভেতর দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, যাতায়াত ও ধর্মাচরণে বাধার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কোচবিহারের জেলাশাসকের কাছে ৮ দফা দাবিতে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা (APDR Deputation Cooch Behar)।

কী অভিযোগ এপিডিআর-এর?

অভিযোগ করা হয়েছে, তুফানগঞ্জের ঝাউকুটি সীমান্তে (Jhaukuti Border Issue) ১৫০ গজের সীমানার বাইরে এসে গ্রামের ভেতরের কৃষিভূমির ওপর ফেন্সিং বা কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এর ফলে বহু ভারতীয় কৃষিজমি কাঁটাতারের ওপারে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পাশাপাশি, চাষের কাজে প্রয়োজনীয় সার, বীজ বা ডিজেল নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিএসএফ কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করছে এবং নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে খাদ্যাভ্যাসের পরিমাণও। এতে এলাকার কৃষিকাজ চরম ব্যাহত হচ্ছে (Farmers Protest Cooch Behar)।

এপিডিআরের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বিএসএফ ক্যাম্প গ্রামের ভেতরে থাকায় স্থানীয় মানুষ ও আত্মীয়স্বজনের অবাধ যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এমনকি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মাচরণের ক্ষেত্রেও নানা বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এর পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে কাঁটাতারের জন্য জমি দেওয়া কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বাকি থাকা ২০ শতাংশ টাকা অবিলম্বে পরিশোধের দাবিও জানান তাঁরা।

কী কী দাবি জানানো হয়েছে?

এপিডিআরের তুফানগঞ্জ-কোচবিহার শাখা (প্রস্তুতি কমিটি)-র আহ্বায়ক আব্দুল সাত্তার, বাকির হোসেন ও আশরাফুল হকদের স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে বিএসএফ-কে ঝাউকুটি গ্রাম থেকে সরিয়ে প্রকৃত সীমান্তে নির্দিষ্ট রাখার দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের মূল ৮ দফা দাবিগুলি হলো:

  • ১) অবিলম্বে BSF-কে ঝাউকুটি গ্রাম থেকে সীমান্তে নির্দিষ্ট এলাকায় চলে যেতে হবে।
  • ২) গ্রামের মধ্যে সাধারণের জীবন জীবিকা নিয়ন্ত্রণ করা BSF-কে বন্ধ করতে হবে। কৃষক ও সাধারণের জীবন ধারণের কোন অধিকারের ওপর বিএসএফ-এর হস্তক্ষেপ করা চলবে না।
  • ৩) ঝাউকুটি এলাকার কৃষকদের স্বাধীনভাবে চাষ করতে দিতে হবে। চাষের ওপর বিএসএফ-এর খবরদারি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
  • ৪) বিএসএফ ও রাজ্য সরকারের ফেন্সিং সীমান্তে ১৫০ গজের সীমানার এপারে কোনভাবেই গ্রামের ভেতরে করা যাবে না।
  • ৫) ফেন্সিংয়ের নামে কৃষকের অসম্মতিতে ঝাউকুটি এলাকার কৃষিজমি কোনভাবেই কাঁটাতারের ওপারে ঠেলে দেওয়া যাবে না।
  • ৬) কাঁটাতারের ওপারে যেসব কৃষক চাষ করেন, তাঁদের চাষের জন্য BSF-কে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গেট খুলে রাখতে হবে।
  • ৭) ১৯৯৬ সালে কাঁটাতারের জন্য যেসব কৃষক জমি দিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্য বাকি ২০% টাকা রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
  • ৮) তুফানগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় মুসলমানদের ধর্মাচরণের ওপর BSF-এর কোনরকম হস্তক্ষেপ করা চলবে না। মসজিদগুলোতে তবলীগ জামাত ও ধর্মসভা করার অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. কোচবিহারের জেলাশাসকের কাছে কারা ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন?

কোচবিহারের তুফানগঞ্জ সীমান্ত সংলগ্ন ঝাউকুটি এলাকায় বিএসএফ-এর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে 'গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি' (এপিডিআর) জেলাশাসকের কাছে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে।

২. এপিডিআর-এর মূল অভিযোগগুলি কী কী?

সংগঠনটির অভিযোগ, কৃষকদের আপত্তির তোয়াক্কা না করে গ্রামের ভেতর দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হচ্ছে, কৃষিকাজে বিএসএফ খবরদারি করছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ধর্মাচরণে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

৩. কৃষকদের জমি ক্ষতিপূরণ নিয়ে কী দাবি জানানো হয়েছে?

স্মারকলিপিতে দাবি জানানো হয়েছে যে, ১৯৯৬ সালে কাঁটাতারের জন্য যেসব কৃষক জমি দিয়েছিলেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্য বাকি ২০ শতাংশ টাকা রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in