'হর ঘর তেরঙ্গা' (Har Ghar Tiranga) অভিযানের সমস্ত খবর এক ক্লিকে

রাজ্যের স্কুলে কি ফের চালু হচ্ছে পাশ-ফেল প্রথা? বড় আপডেট দিল শিক্ষা দপ্তর

West Bengal school pass fail system update education department committee
Graphics: SE

কলকাতা: রাজ্যে স্কুলস্তরে কি আবার ফিরে আসছে পাশ-ফেল প্রথা? এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা জল্পনা চলছিল। তবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ২০২৬-২৭ চলতি শিক্ষাবর্ষে স্কুলস্তরে পাশ-ফেল প্রথা ফিরছে না। কিন্তু আগামী শিক্ষাবর্ষগুলিতে এই প্রথা ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার (West Bengal Government) একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে চলেছে।

পাশ-ফেল প্রথা নিয়ে কী বলছে শিক্ষা দপ্তর?

শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের স্কুল শিক্ষার মানোন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সিলেবাস কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আরও বেশ কয়েকটি কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, যার মধ্যে পাশ-ফেল সংক্রান্ত একটি বিশেষ কমিটি অন্যতম।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, "চলতি শিক্ষাবর্ষে পাশ-ফেল চালু হচ্ছে না। তবে আগামী দিনে এই প্রথা ফিরবে কি না, তা নিশ্চিত হতে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। কমিটির রিপোর্ট হাতে এলে সেই অনুযায়ী সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।"

পাশ-ফেল প্রথা বা 'নো-ডিটেনশন পলিসি' কী?

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে দেশজুড়ে 'শিক্ষার অধিকার আইন' (Right to Education Act) পাস হয়। এই আইন অনুযায়ী, ২০১০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ-ফেল প্রথা তুলে দেওয়া হয়, যা 'নো-ডিটেনশন পলিসি' (No-Detention Policy) নামে পরিচিত। বাম আমলে প্রাথমিকে পাশ-ফেল প্রথা আগেই তুলে দেওয়া হয়েছিল।

এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ছিল প্রাথমিক শিক্ষায় স্কুলছুটের হার শূন্যে নামিয়ে আনা। আগে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ফলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যে সামাজিক লজ্জা, হীনম্মন্যতা ও মানসিক চাপের সৃষ্টি হতো, তা দূর করে একটি ভীতিমুক্ত ও আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল এই আইনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি প্রতিটি শিশুর জন্য বাধ্যতামূলক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধুমাত্র তিন ঘণ্টার বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলের উপরে নির্ভর না করে, সারা বছর ধরে ধারাবাহিক ও সার্বিক মূল্যায়নের উপরে জোর দেওয়া হয়েছিল।

কেন ফের পাশ-ফেল চালুর দাবি উঠছে?

'নো-ডিটেনশন পলিসি' চালু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠতে শুরু করে যে, এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের একাংশের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি অনীহা তৈরি হচ্ছে এবং শিক্ষার সার্বিক মান ক্রমশ নিম্নমুখী হচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে, শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার 'শিক্ষার অধিকার আইন'-টি সংশোধন করে। এর ফলে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পুনরায় পাশ-ফেল ফেরানোর আইনি অধিকার রাজ্যগুলির হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এখন দেখার বিষয়, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে রাজ্য সরকার আগামী শিক্ষাবর্ষগুলিতে পাশ-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে চূড়ান্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. পশ্চিমবঙ্গে কি চলতি শিক্ষাবর্ষে পাশ-ফেল প্রথা চালু হচ্ছে?

না, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ২০২৬-২৭ চলতি শিক্ষাবর্ষে স্কুলস্তরে পাশ-ফেল প্রথা ফিরছে না।

২. আগামী দিনে পাশ-ফেল চালু হবে কি না, তা কে ঠিক করবে?

আগামী দিনে এই প্রথা ফিরবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৩. 'নো-ডিটেনশন পলিসি' কী?

২০০৯ সালের 'শিক্ষার অধিকার আইন' অনুযায়ী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীকে ফেল করানো বা আটকে না রাখার নিয়মকেই 'নো-ডিটেনশন পলিসি' বলা হয়।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in