রাজ্যে Ph.D. ভর্তিতে বড়সড় বদল! বাতিল নিজস্ব প্রবেশিকা, মান্যতা জাতীয় স্তরের পরীক্ষাকেই

কলকাতা: রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে Ph.D.-তে ভর্তির নিয়মে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এখন থেকে রাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে Ph.D. কোর্সে ভর্তি হতে গেলে আর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষা (যেমন- PAT বা RET) দিতে হবে না। পরিবর্তে UGC-NET, CSIR-NET, GATE বা CEED-এর মতো জাতীয় স্তরের (National-level) পরীক্ষার স্কোরকেই মান্যতা দেওয়া হবে।

গত ৩রা আগস্ট, ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর (Department of Higher Education, Govt. of West Bengal) একটি নির্দেশিকা জারি করে এই নিয়মের কথা স্পষ্ট করেছে। রাজ্যের সমস্ত সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে এই নতুন নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে।

কী বলা হয়েছে নতুন নির্দেশিকায়?

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই Ph.D. ভর্তির ক্ষেত্রে (Ph.D. Admission 2026) এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।

  • জাতীয় স্তরের স্কোর বাধ্যতামূলক: বিশ্ববিদ্যালয়গুলি এখন থেকে আর নিজেদের ইচ্ছেমতো Research Eligibility Test (RET) বা Ph.D. Admission Test (PAT) নিতে পারবে না। ভর্তিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের অবশ্যই UGC-NET, UGC-CSIR NET, GATE, CEED বা সমতুল্য কোনো জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • ভর্তির প্রক্রিয়া: এই জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলিতে প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে এবং এরপর একটি ইন্টারভিউ বা ভাইভা-ভোস (Viva-voce) প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মেধা তালিকা তৈরি করা হবে।

কেন এই যুগান্তকারী পরিবর্তন?

সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই নতুন সিদ্ধান্তটি মূলত UGC Regulations 2022 এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ (NEP 2020)-এর নির্দেশিকা মেনে নেওয়া হয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলি হলো:

  1. স্বচ্ছতা ও সমতা: প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা আলাদা পরীক্ষার পরিবর্তে একটি অভিন্ন এবং সর্বভারতীয় মানদণ্ড তৈরি করা, যাতে ভর্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
  2. হয়রানি কমানো: ছাত্রছাত্রীদের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বারবার প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়ার খরচ এবং মানসিক চাপ কমানো।
  3. গবেষণার মানোন্নয়ন: জাতীয় স্তরে উত্তীর্ণ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের গবেষণার সুযোগ দেওয়া, যাতে রাজ্যের গবেষণার সার্বিক মান বৃদ্ধি পায়।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে শিক্ষামহলের একাংশ স্বাগত জানালেও, অনেক অধ্যাপক এবং গবেষকদের মতে, এর ফলে গ্রামীণ এবং প্রান্তিক এলাকার ছাত্রছাত্রীদের Ph.D. করার সুযোগ কিছুটা কমে যেতে পারে, কারণ জাতীয় স্তরের পরীক্ষার প্রতিযোগিতা অত্যন্ত কঠিন। তা সত্ত্বেও, সর্বভারতীয় শিক্ষানীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. পশ্চিমবঙ্গে Ph.D. ভর্তিতে নতুন নিয়মটি কী?

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে Ph.D.-তে ভর্তির জন্য নিজস্ব প্রবেশিকা পরীক্ষা (RET/PAT) বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে UGC-NET, CSIR-NET বা GATE-এর মতো জাতীয় স্তরের পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

২. এই নিয়ম কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য?

উচ্চশিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

৩. জাতীয় স্তরের স্কোরের পর ভর্তির পরবর্তী ধাপ কী?

জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় প্রাপ্ত স্কোরের ভিত্তিতে একটি ইন্টারভিউ বা ভাইভা-ভোস (Viva-voce) প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে চূড়ান্ত মেধা তালিকা তৈরি হবে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in