কলকাতা: আজ কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) বহুল চর্চিত 'CENSUS ON DUTY' মামলার রায় ঘোষনার ঠিক আগেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জনগণনার কাজে ব্যবহার নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য স্কুল শিক্ষা দপ্তর (School Education Department WB)। আচমকা আগের নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল রাজ্য সরকার।
পুরনো নির্দেশিকা বাতিল, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে কী বলা হয়েছে?
শিক্ষা দপ্তরের জারি করা এক নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গত ৩ অগাস্ট, ২০২৬ তারিখে জারি করা Memo No. 708(46)-Sc/P নির্দেশিকাটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হলো।
ওই পুরোনো নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা ছিল যে, "শিক্ষকদের এমনভাবে জনগণনার কাজে ব্যবহার করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের দৈনন্দিন পঠনপাঠনের কোনো ক্ষতি না হয়।"
কিন্তু আচমকা সেই পুরোনো নির্দেশিকা বাতিল করে নতুন নির্দেশে বলা হয়েছে— এবার থেকে Census ডিউটিতে থাকা শিক্ষকদের সম্পূর্ণভাবে Census বা জনগণনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ীই কাজে ব্যবহার (West Bengal Teachers Census Duty) করা যাবে।
ক্ষুব্ধ শিক্ষক মহল, পঠনপাঠন শিকেয় ওঠার আশঙ্কা
রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের এই আকস্মিক ভোলবদলে রাজ্যের শিক্ষক মহলে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের মতে, এই নতুন নির্দেশিকার ফলে শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় ধরে জনগণনার কাজে যুক্ত থাকতে হবে। এর সরাসরি ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের ওপর, বিশেষ করে যখন এমনিতেই বহু স্কুলে শিক্ষক ঘাটতি রয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের শুনানির দিকে তাকিয়ে সব পক্ষ
আজই কলকাতা হাইকোর্টে এই 'CENSUS ON DUTY' সংক্রান্ত মামলার (Govt Employees News) গুরুত্বপূর্ণ শুনানি রয়েছে। শিক্ষকদের মূল ডিউটি পঠনপাঠন নাকি সরকারি জনগণনা— এই বিষয়টি নিয়ে আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলছে। ঠিক শুনানির আগেই রাজ্য সরকারের এই নয়া নির্দেশিকা মামলাটিকে কোন দিকে মোড় নেওয়াবে, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বর্তমানে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষক সংগঠন (WB Teachers News Today) এবং সাধারণ মানুষের নজর কলকাতা হাইকোর্টের আজকের নির্দেশের দিকেই আটকে রয়েছে। আদালত এই নতুন নির্দেশিকাকে মান্যতা দেবে, নাকি পঠনপাঠনের স্বার্থে কোনো স্থগিতাদেশ দেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. রাজ্য সরকার শিক্ষকদের জনগণনা ডিউটি নিয়ে কোন নির্দেশিকা বাতিল করেছে?
রাজ্য সরকার গত ৩ অগাস্ট, ২০২৬ তারিখে জারি করা নির্দেশিকাটি বাতিল করেছে, যেখানে বলা ছিল পঠনপাঠনের ক্ষতি না করে শিক্ষকদের জনগণনার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
২. শিক্ষা দপ্তরের নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এবার থেকে Census বা জনগণনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ীই শিক্ষকদের জনগণনার কাজে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা যাবে।
৩. এই নির্দেশিকা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ কেন?
শিক্ষকদের আশঙ্কা, এই নতুন নির্দেশিকার ফলে তাঁদের দীর্ঘ সময় ধরে জনগণনার কাজ করতে হবে, যার ফলে স্কুলে শিক্ষক ঘাটতির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ব্যাপক ক্ষতি হবে।