কলকাতা: শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অধিকার রক্ষা এবং ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে শনিবার কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে (Mitra Institution Kolkata) সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হল পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির (West Bengal Teachers Association) পঞ্চম দ্বিবার্ষিক কলকাতা জেলা সম্মেলন। এদিন জেলার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গোটা অনুষ্ঠানটি এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শ্রদ্ধাঞ্জলি ও সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্ব
সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় জাতীয় পতাকা ও সমিতির নিজস্ব পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে। এরপর শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ এবং সমবেত কণ্ঠে গীত হয় 'বন্দে মাতরম'।
- সম্প্রতি প্রয়াত বিশিষ্ট শিক্ষক ড. পূর্ণেন্দু পাল এবং নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতদের স্মৃতির উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালনের পর মূল মঞ্চের কর্মসূচি শুরু হয়।
- সম্মেলনে উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন কলকাতার কালিকমালা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শ্রীমতি রুমা সরকার।
- সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন সমিতির কলকাতা জেলা সভাপতি শ্রীবলরাম নাথ।
শিক্ষকদের বকেয়া নিয়ে কিংকর অধিকারীর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা
এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে (Kolkata District Conference 2026) উপস্থিত ছিলেন রাজ্য স্তরের সভাপতি গোলাম মোস্তফা সরকার, সাধারণ সম্পাদক শ্রী চঞ্চল ঘোষ, উপদেষ্টা শ্রী বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায়, শ্রী পরেশ শেঠ, শ্রী গোপাল সাউ, শ্রী রাজকুমার চন্দ্র এবং কলকাতা জেলা সম্পাদক শ্রী কৃষ্ণেন্দু জানা।
তবে সম্মেলনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারীর (Kingkar Adhikari) একটি বিশেষ ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষকদের পেশাগত অধিকার, বকেয়া পাওনা (WB Teachers DA Demand) এবং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সওয়াল করেন।
এছাড়াও, সম্মেলনে সমিতির বার্ষিক কাজকর্মের ধারা, শিক্ষকদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা এবং 'পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা অধিকার' (RTE Act West Bengal) আইন অনুযায়ী ছাত্র-ছাত্রীদের পঠনপাঠনে কী কী সহযোগিতা দেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সংগঠনের দীর্ঘ ৭৫ বছরের ঐতিহ্য
গম্ভীর আলোচনার ফাঁকে ফাঁকেই অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পর্ব। স্কটিশ চার্চ, সুরকন্যা, খিদিরপুর মিলনী, মেট্রোপলিটন, মিত্র ইনস্টিটিউশন, কসবা জগদীশ, বেলেঘাটা-সহ একাধিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা স্বরচিত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি এবং সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করে অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন।
উল্লেখ্য, জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রীয় সংগঠন হিসেবে পরিচিত 'পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতি' বিগত প্রায় ৭৫ বছর ধরে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সমাজের কল্যাণে নিরলস কাজ করে আসছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার্থীদের জন্য টেস্ট পেপার প্রকাশ এবং সপ্তম-অষ্টম শ্রেণির জন্য সংস্কৃত পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করার মতো শিক্ষামূলক কাজে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। পরিশেষে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ ও সফল দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির পঞ্চম দ্বিবার্ষিক কলকাতা জেলা সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হল?
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অধিকার রক্ষা এবং পঠনপাঠনের মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে শনিবার কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে (মেন) এই সম্মেলন সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
২. সম্মেলনে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের হয়ে কে বক্তব্য রাখেন?
সম্মেলনে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বিশেষ বক্তব্য রাখেন এবং তিনি শিক্ষকদের বকেয়া পাওনা ও পেশাগত অধিকার নিয়ে তীব্র সওয়াল করেন।
৩. পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির শিক্ষামূলক অবদান কী?
বিগত প্রায় ৭৫ বছর ধরে এই সংগঠন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের কল্যাণে কাজ করছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের জন্য টেস্ট পেপার প্রকাশ এবং সংস্কৃত পাঠ্যপুস্তক প্রস্তুত করার মতো কাজে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।