'হর ঘর তেরঙ্গা' (Har Ghar Tiranga) অভিযানের সমস্ত খবর এক ক্লিকে

স্কুলের পরিকাঠামো ব্যবহারে বড়সড় শিথিলতা! ২০১৮ সালের কড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল শিক্ষা দফতর

WB School Education Department lifts ban on school infrastructure use for non-educational purposes
Graphics: SE

কলকাতা: রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলির ভবন ও পরিকাঠামো (School Infrastructure) শিক্ষামূলক ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবার বড়সড় শিথিলতা আনল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর (West Bengal School Education Department)। ২০১৮ সালে জারি হওয়া সেই কড়া নির্দেশিকা, যেখানে স্কুলের পরিকাঠামো শিক্ষার বাইরের কাজে ব্যবহার কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে খতিয়ে দেখে তবেই স্কুল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (District Inspector of Schools)।

নতুন নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?

সাম্প্রতিক এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ২০১৮ সালের নির্দেশ অবিলম্বে বাতিল করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো স্কুলের ভবন, প্রেক্ষাগৃহ, খেলার মাঠ বা অন্য কোনো পরিকাঠামো শিক্ষামূলক ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহারের আবেদন এলে, আগের মতো পাইকারি হারে তা বাতিল করা হবে না।

পরিবর্তে, প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে পরীক্ষা করে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে সেই নির্দিষ্ট ঘটনার বাস্তব পরিস্থিতি, আবেদনকারীর প্রয়োজনীয়তা এবং তার সম্ভাব্যতা বিচার করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

শর্তসাপেক্ষ অনুমতি

তবে, ইচ্ছেমতো স্কুলের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। শিক্ষা দফতর জানিয়েছে, কোনো আবেদন অনুমোদনের আগে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে মূলত তিনটি বিষয় দেখতে হবে:

  • আবেদনটি সরকারি নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
  • এর ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং পঠনপাঠনের পরিবেশে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না।
  • প্রচলিত সরকারি আইন, বিধি এবং প্রশাসনিক নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না। কোনো ক্ষেত্রেই আইনি বা প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

এই নির্দেশিকায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের অত্যন্ত সতর্কতা ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিটি আবেদন খতিয়ে দেখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগের নির্দেশিকায় কী ছিল?

২০১৮ সালে রাজ্য শিক্ষা দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলের (Government schools in WB) ভবন এবং অন্যান্য পরিকাঠামো শিক্ষার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে না। শিক্ষা দফতরের সেসময়কার পর্যবেক্ষণ ছিল যে, বিভিন্ন সংস্থা বা সংগঠনকে স্কুলের ভবন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ফলে স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠনের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং পড়ুয়াদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই বিশেষ অনুমতি ছাড়া স্কুলের পরিকাঠামো অন্য কাজে ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই পুরোনো কড়াকড়ি সরিয়ে প্রতিটি আবেদনের গুরুত্ব বিচার করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথেই হাঁটল রাজ্য সরকার।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. স্কুল শিক্ষা দফতর সম্প্রতি কী নির্দেশিকা জারি করেছে?

রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর ২০১৮ সালের নির্দেশিকা বাতিল করে জানিয়েছে যে, এখন থেকে শিক্ষামূলক কাজ ছাড়াও বিশেষ প্রয়োজনে প্রতিটি আবেদন খতিয়ে দেখে শর্তসাপেক্ষে স্কুলের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে দেওয়া যেতে পারে।

২. স্কুল ব্যবহারের অনুমতির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেবেন?

স্কুলের পরিকাঠামো অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে কি না, সেই আবেদনের যৌক্তিকতা ও পঠনপাঠনের পরিবেশ বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংশ্লিষ্ট জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক।

৩. ২০১৮ সালের নির্দেশিকায় কী কড়াকড়ি ছিল?

২০১৮ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় শিক্ষার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো বেসরকারি বা বাইরের কাজে স্কুলের পরিকাঠামো ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in