ওয়াশিংটন: রাশিয়া ও ইরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াতে মার্কিন সেনেটে একটি অত্যন্ত কড়া বিল পাস হয়েছে। এই বিলটি আইনে পরিণত হলে যে দেশগুলো রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল বা গ্যাস কিনবে, তাদের ওপর ১০০% পর্যন্ত শুল্ক (Tariff) আরোপ করার ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। স্বভাবতই এই বিল পাস হওয়ায় ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপর বড়সড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কী রয়েছে এই বিলে?
প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে এই বিলটির নাম রাখা হয়েছে 'লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬' (Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026)। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো রাশিয়া এবং ইরানকে আর্থিকভাবে কোণঠাসা করা। এর মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সেই সব দেশের ওপর ১০০% পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করার অধিকার দেওয়া হয়েছে, যারা রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনে তাদের অর্থনীতিকে সাহায্য করছে।
তবে, প্রেসিডেন্ট চাইলে জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এই শুল্ক মকুব করা বা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। সেনেটে পাস হওয়ার পর বিলটি এখন 'হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস'-এ পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে পাস হলে তা স্বাক্ষরের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) কাছে যাবে।
ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই, পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) কিনছে। চীনও একইভাবে রাশিয়া থেকে তেল ও গ্যাস কিনছে। আমেরিকা বারবার দাবি করেছে যে, ভারত যদি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা বন্ধ করে, তবে রাশিয়ার অর্থনীতি ভেঙে পড়বে এবং তারা যুদ্ধ থামাতে বাধ্য হবে।
যদি এই বিলটি আইনে পরিণত হয় এবং মার্কিন প্রশাসন সত্যি সত্যিই ভারতের ওপর এই ১০০% শুল্ক আরোপ করে, তবে ভারত থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর বিশাল প্রভাব পড়বে। এর ফলে ভারতকে বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। বাধ্য হয়ে ভারতকে রাশিয়ার বদলে অন্য কোনো দেশ থেকে বেশি দামে তেল বা গ্যাস কিনতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিল পাস হলেও এখনই খুব বেশি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কারণ, এই আইনটি প্রয়োগের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে থাকছে। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান সূত্র বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে, প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, আমেরিকা যদি ভারতের ওপর কোনো কঠোর শুল্ক আরোপ করে, তবে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে চীনের আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে ভারত ও আমেরিকা একসাথে কাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে চিড় ধরলে পরোক্ষভাবে তা চীনের জন্যই লাভজনক হবে। তাই ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যথেষ্ট ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. রাশিয়া থেকে তেল কিনলে আমেরিকার নতুন বিলে কী শাস্তির কথা বলা হয়েছে?
মার্কিন সেনেটে পাস হওয়া নতুন বিল অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে তেল বা গ্যাস কিনলে সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর ১০০% পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা পাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
২. এই বিলের ফলে ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে সস্তায় প্রচুর অপরিশোধিত তেল কেনে। এই বিল আইনে পরিণত হলে আমেরিকায় ভারতীয় রপ্তানির ওপর ১০০% শুল্ক বসতে পারে, যা ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।
৩. এই বিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার হাতে থাকছে?
বিলটি আইনে পরিণত হলেও শুল্ক আরোপ করা বা জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে তা মকুব করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকবে।