নয়াদিল্লি: ইরানের তেল এবং পেট্রোকেমিক্যাল বাণিজ্যে বেআইনিভাবে সহায়তা করার গুরুতর অভিযোগে এবার চারটি ভারতীয় কোম্পানির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা (US Sanctions Indian Companies) জারি করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, এই কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক স্তরে একটি গোপন নেটওয়ার্ক বা 'শ্যাডো ফ্লিট' (Shadow Fleet) ব্যবহার করে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহণ এবং বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ছিল।
গোপন নেটওয়ার্ক এবং মার্কিন ট্রেজারির পদক্ষেপ
মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের 'অফিস অফ ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল' (US Treasury Department OFAC)-এর তরফ থেকে সম্প্রতি এই নতুন দফার নিষেধাজ্ঞার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের অভিযোগ, এই সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানের (Iran Oil Trade network) ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি এবং অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হয়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেনে মধ্যস্থতা করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই তেল রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত বিপুল আয় ইরান মূলত তাদের পরমাণু কর্মসূচি ত্বরান্বিত করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East Conflict) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদত জোগানোর কাজে ব্যবহার করে।
তাই ইরানের এই আয়ের উৎস পুরোপুরি বন্ধ করতেই ভারত ছাড়াও হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং চিনের একাধিক লজিস্টিক ও ট্রেডিং সংস্থার ওপরও একই ধরনের কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন।
নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ও ভারতের অবস্থান
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কোম্পানিগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের কোনো সম্পত্তি বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আর ব্যবহার করতে পারবে না। এর পাশাপাশি, এই সংস্থাগুলির সঙ্গে কোনো মার্কিন নাগরিক, ব্যাঙ্ক বা প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবসায়িক লেনদেনও করতে পারবে না, যার ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে বাণিজ্য করা তাদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিগত কয়েক বছরে ভারত সরকার সরকারিভাবে ইরানের থেকে তেল কেনা বন্ধ রাখলেও, বেশ কিছু বেসরকারি লজিস্টিক কোম্পানির বিরুদ্ধে এমন ঘুরপথে বাণিজ্যের অভিযোগ বারবার সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন কড়া পদক্ষেপ দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে (India US Relations) আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. আমেরিকা কেন ৪টি ভারতীয় কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ওই চারটি ভারতীয় কোম্পানি একটি গোপন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বেআইনিভাবে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহণ এবং বিক্রিতে সহায়তা করেছে।
২. এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ওই কোম্পানিগুলির কী সমস্যা হবে?
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কোম্পানিগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের কোনো সম্পত্তি বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে না এবং কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান বা নাগরিক তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারবে না।
৩. ভারত ছাড়া আর কোন দেশের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে?
ভারত ছাড়াও হংকং, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং চিনের একাধিক লজিস্টিক ও ট্রেডিং সংস্থার ওপরও একই কারণে কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন।