কলকাতা: আসন্ন 'জনগণনা ২০২৭' বা সেনসাস (Census 2027)-এর প্রস্তুতি শুরু হতেই শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তরের (West Bengal School Education Department) একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে এই বিতর্কের সূত্রপাত। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্কুল চলাকালীন কোনোভাবেই সেনসাসের কাজ করা যাবে না। এর ফলে সেনসাস ডিউটিকে 'অন ডিউটি' (On Duty) হিসেবে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না, যা সরাসরি সেনসাস আইনের পরিপন্থী বলে দাবি করছেন কর্মীরা।
কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায়?
শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, তার জন্য স্কুল টাইমে সেনসাসের কাজ করা থেকে শিক্ষকদের বিরত থাকতে হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী:
- সেনসাসের ডিউটি করতে হবে স্কুল শুরু হওয়ার আগে অথবা স্কুল ছুটির পর।
- প্রয়োজনে সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ শনিবার ছুটির পর এবং রবিবার এই কাজ করতে হবে।
- কোনোভাবেই পঠনপাঠন ব্যাহত করে সেনসাস ডিউটি করা যাবে না।
কেন ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও কর্মীরা?
শিক্ষা দপ্তরের এই নির্দেশিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই জনগণনাকারী (Enumerator) কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের ক্ষোভের মূল কারণ হলো আইনি অসংগতি এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ।
- আইনি অসংগতি: শিক্ষকদের দাবি, 'সেনসাস অ্যাক্ট-১৯৪৮' (Census Act 1948)-এর ১৫এ এবং ১৫বি (15A & B) ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, জনগণনার কাজ একটি জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ ডিউটি এবং এটি করার সময় কর্মীকে 'অন ডিউটি' হিসেবে গণ্য করতে হবে। কিন্তু শিক্ষা দপ্তরের এই নির্দেশিকা কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
- অতিরিক্ত কাজের চাপ: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলে একটানা ডিউটি করার পর, আবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেনসাসের কাজ করা চরম অমানবিক বলে দাবি করছেন শিক্ষকরা। এর পাশাপাশি শনিবার ছুটির পর বা রবিবার ছুটির দিনে কাজ করতে বাধ্য করাটা তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন এবং বিশ্রামের অধিকারে হস্তক্ষেপ বলেও তাঁরা মনে করছেন।
কর্মীদের দাবি:
ক্ষুব্ধ শিক্ষক মহলের বক্তব্য, সরকার যদি চায় শিক্ষকরা সেনসাসের কাজ করুক, তবে তাঁদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী 'অন ডিউটি' হিসেবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায়, শুধুমাত্র ছুটির দিনে এবং স্কুল আওয়ারের বাইরে এই বিশাল মাপের জাতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা অসম্ভব।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন এই নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করে শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা দপ্তরের কাছে এটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কর্মীদের এই ক্ষোভের মুখে পড়ে শিক্ষা দপ্তর তাদের নির্দেশিকায় কোনো বদল আনে কি না।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. জনগণনা ২০২৭-এর ডিউটি নিয়ে শিক্ষা দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা কী?
শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, স্কুল চলাকালীন বা পঠনপাঠন ব্যাহত করে সেনসাসের কাজ করা যাবে না। স্কুল শুরু হওয়ার আগে, পরে বা ছুটির দিনে এই কাজ করতে হবে।
২. সেনসাসের কাজে শিক্ষকদের 'অন ডিউটি' না দেওয়ায় সমস্যা কোথায়?
শিক্ষকদের দাবি, সেনসাস অ্যাক্ট ১৯৪৮ অনুযায়ী এটি একটি জাতীয় কাজ এবং এর জন্য 'অন ডিউটি' প্রাপ্য। নির্দেশিকাটি এই কেন্দ্রীয় আইনের পরিপন্থী।
৩. শিক্ষকরা কেন এই নির্দেশিকার প্রতিবাদ করছেন?
আইনি অসংগতির পাশাপাশি, সারাদিন স্কুলে কাজ করার পর ছুটির দিনে বা স্কুল শেষে অতিরিক্ত কাজ করাকে শিক্ষকরা অমানবিক ও তাঁদের বিশ্রামের অধিকারে হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন।