কলকাতা: শিক্ষকদের সেন্সাস বা জনগণনার ডিউটি (Census Duty 2027) নিয়ে এবার জল গড়াল কলকাতা হাইকোর্টে। বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন এবং জনগণনার কাজ একসঙ্গে সামলানো বাস্তবসম্মত নয়, এই দাবি তুলে মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার শিক্ষকরা। গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের করা হয়েছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও কারণ
সম্প্রতি, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্কুল শিক্ষা দপ্তরের জয়েন্ট ডিরেক্টর একটি নির্দেশিকা (মেমো) জারি করেন। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, শিক্ষকদের সেন্সাসের কাজ এমনভাবে করতে হবে যাতে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার কোনো রকম ক্ষতি না হয়। কিন্তু আবেদনকারী শিক্ষকদের দাবি, সেন্সাসের বিপুল চাপ এবং স্কুলের প্রতিদিনের দায়িত্ব একইসঙ্গে পালন করা বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন ও প্রায় অসম্ভব।
এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধেই সংবিধানের ২২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে কলকাতা হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (Writ Petition) দাখিল করেছেন রাজ্যের শিক্ষক সমাজের একাংশ।
রিট পিটিশনে তোলা গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নসমূহ
আদালতের সামনে এই মামলায় বেশ কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ আইনি প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলি হলো:
- শিক্ষকদের সেন্সাস ডিউটিতে নিয়োগ করার আগে কি তাদের বাস্তব সমস্যাগুলোর কথা আদৌ বিবেচনা করা হয়েছে?
- রাইট টু এডুকেশন বা আরটিই অ্যাক্ট (RTE Act 2009) অনুযায়ী, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে শিক্ষকরা কি এই ধরনের অতিরিক্ত সরকারি কাজ করতে বাধ্য?
- এই অতিরিক্ত দায়িত্ব কি শিক্ষকদের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত 'জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার'-এর সরাসরি লঙ্ঘন করছে না?
- সেন্সাস ডিউটি চলাকালীন শিক্ষকদের যথাযথ সুরক্ষা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার কি নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে?
- ৩ আগস্টের ওই বিতর্কিত মেমো কি দ্রুত প্রত্যাহার বা সংশোধন করা উচিত নয়?
পরবর্তী শুনানি ও বর্তমান অবস্থা
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলাটি বর্তমানে 'নিউ মোশন' স্টেজে রয়েছে। আগামী ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই মামলার প্রথম শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালত সেদিন আবেদনকারীদের বিস্তারিত বক্তব্য শুনবে। তবে এই মুহূর্তে আদালত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বা চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেনি।
এখন দেখার বিষয়, আগামী ১১ আগস্ট শুনানির পর আদালত শিক্ষকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে কী নির্দেশ দেয় এবং শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকায় কোনো বদল আসে কি না।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. কলকাতা হাইকোর্টে শিক্ষকদের সেন্সাস ডিউটি নিয়ে মামলার শুনানি কবে?
শিক্ষকদের সেন্সাস ডিউটি সংক্রান্ত এই মামলার প্রথম শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে।
২. শিক্ষকরা কেন সেন্সাস ডিউটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন?
শিক্ষকদের দাবি, স্কুলের পঠনপাঠন এবং জনগণনার মতো বিপুল চাপের কাজ একসঙ্গে সামলানো বাস্তবসম্মত নয় এবং এটি আরটিই অ্যাক্ট (RTE Act 2009)-এর পরিপন্থী।
৩. কলকাতা হাইকোর্টের কোন বেঞ্চে এই মামলা দায়ের হয়েছে?
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।