কলকাতা: এসএসসি (SSC) ২০১৬ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিযুক্ত কয়েক হাজার শিক্ষাকর্মীর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আনটেন্টেড (Untainted) মোট ৩৩৯৪ জন শিক্ষাকর্মীর ১৮ মাস বেতন বন্ধ থাকায় তাঁদের জীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং ওই চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীদের ফেরাতে আসরে নামল শিক্ষক সংগঠন 'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' (All Post Graduate Teachers Welfare Association)।
৩৩৯৪ শিক্ষাকর্মীর বেতন চালুর দাবিতে ডেপুটেশন
আগামী ২০২৭ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী, স্কলারশিপ, রেজিস্ট্রেশন এবং স্কুলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অফিশিয়াল কাজকর্ম যাতে ব্যাহত না হয়, সেই উদ্দেশ্যে এই ৩৩৯৪ জন যোগ্য শিক্ষাকর্মীর (Non Teaching Staff Reinstatement) বেতন চালু সহ চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার হাইস্কুল শিক্ষক সংগঠনটির পক্ষ থেকে মধ্য শিক্ষা পর্ষদের সভাপতির কাছে একটি প্রতিনিধিমূলক ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়।
সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গরাই সুপ্রিম কোর্টে এমএ (MA) ফাইল করার বিষয়ে আইনগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পর্ষদ সভাপতিকে বিশেষভাবে আবেদন জানান। এই দাবির সঙ্গে পর্ষদ সভাপতি সহমত পোষণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া, শিক্ষাকর্মীদের বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের জন্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের (West Bengal SSC News) চেয়ারম্যানকেও একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের রাজ্য নেতৃত্ব ও মালদা জেলা কোষাধ্যক্ষ অভিষেক পাল জানান, "শিক্ষাকর্মী ছাড়া স্কুলগুলিতে শিক্ষকদের উপর শিক্ষাবহির্ভূত কাজকর্মের বিপুল চাপ পড়ছে। এই ৩৩৯৪ জন শিক্ষাকর্মীকে পুনরায় স্কুলে যোগদানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।"
টেট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং শিক্ষকদের উদ্বেগ
গত ০১/০৯/২০২৫ তারিখে প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্টের টেট (TET Supreme Court Order) সংক্রান্ত রায় অনুযায়ী, রাজ্যের প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি, জুনিয়র হাইস্কুল ও হাইস্কুলের বহু ইনসার্ভিস (In-service) শিক্ষকের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। এই রায়ের ফলে যাতে রাজ্যের কয়েক লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি অনিশ্চিত হয়ে না পড়ে, তার জন্য বিধানসভায় বিল এনে চাকরি সুনিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির দাবি, "রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট, ২০০৯ (RTE Act 2009) সাপেক্ষে লক্ষ লক্ষ শিক্ষকের চাকরি বাঁচাতে এবং তাঁদের নিয়োগ পরীক্ষাকেই টেট সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করার জন্য রাজ্য সরকার দ্রুত বিধানসভায় বিল পাশ করুক।"
এই বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের কাছে সময় প্রার্থনা করেছে এবং একটি লিখিত চিঠি দিয়েছে।
উৎসশ্রী পোর্টালে বদলি সংক্রান্ত একগুচ্ছ দাবি
শিক্ষাকর্মী এবং টেট ইস্যুর পাশাপাশি উৎসশ্রী পোর্টালের (Utsashree Portal Transfer) মাধ্যমে মিউচুয়াল ও জেনারেল বদলি নিয়েও শিক্ষামন্ত্রী, স্কুল শিক্ষা কমিশনার ও এসএসসি চেয়ারম্যানকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে। বদলি সংক্রান্ত তাদের মূল দাবিগুলি হলো:
- প্রথম পর্যায়ে বদলি: সেকশন নোটিশ কার্যকর করতে প্রথম পর্যায়ে জুনিয়র হাইস্কুলের ইচ্ছুক পিজি টিচারদের নিজ জেলায় বাড়ির কাছাকাছি হাইস্কুলে বদলির সুযোগ দিতে হবে।
- নির্ভুল ভ্যাকেন্সি: পোর্টালটি আরও সক্রিয় করে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকার তথ্য সহ সমস্ত শূন্যপদ বা ভ্যাকেন্সি নির্ভুলভাবে আপলোড করতে হবে।
- দূরবর্তী শিক্ষকদের অগ্রাধিকার: শর্তহীনভাবে দীর্ঘদিন দূরবর্তী জেলায় কর্মরত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বাড়ির কাছাকাছি বদলির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
- মিউচুয়াল বদলি: একাধিকবার মিউচুয়াল ট্রান্সফারের সুবিধার জন্য ২০১২ সালের নিয়ম সাপেক্ষে একটি অতিরিক্ত অ্যামেন্ডমেন্ট (Amendment) করা হোক এবং নরমাল সেকশন ও এইচএস সেকশনের অনার্স পিজি শিক্ষকদের মধ্যে ট্রান্সফার চালু করতে হবে।
এছাড়াও, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সভাপতির কাছে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের মডেল প্রশ্ন ওয়েবসাইটে আপলোড করার দাবিও জানিয়েছে 'অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন' বা APGTWA।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ৩৩৯৪ জন শিক্ষাকর্মীকে নিয়ে শিক্ষক সংগঠন কী দাবি তুলেছে?
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বেতন বন্ধ থাকা ৩৩৯৪ জন আনটেন্টেড শিক্ষাকর্মীর পুনরায় বেতন চালু ও চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য পর্ষদ ও এসএসসি-কে সুপ্রিম কোর্টে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
২. সুপ্রিম কোর্টের টেট রায় নিয়ে শিক্ষকদের কী সমস্যা দেখা দিয়েছে?
গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর টেট সংক্রান্ত রায়ের জেরে লক্ষ লক্ষ ইনসার্ভিস শিক্ষকের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাই তাঁদের নিয়োগ পরীক্ষাকেই টেট সমতুল্য হিসেবে গণ্য করে বিধানসভায় বিল পাশের দাবি জানানো হয়েছে।
৩. উৎসশ্রী পোর্টালে বদলি নিয়ে মূল দাবিগুলো কী?
দূরবর্তী জেলায় কর্মরত শিক্ষকদের শর্তহীনভাবে বাড়ির কাছে বদলির সুযোগ দেওয়া এবং নরমাল ও এইচএস সেকশনের পিজি টিচারদের মধ্যে একাধিকবার মিউচুয়াল ট্রান্সফারের নিয়ম চালুর দাবি তোলা হয়েছে।