নয়াদিল্লি: রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডি এ (DA) মামলার শুনানিতে আজ সুপ্রিম কোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্পেশাল বেঞ্চে হওয়া এই শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, ডি এ মেটানোর বিষয়ে 'ইন্দু মালহোত্রা মনিটরিং কমিটি' (Indu Malhotra Monitoring Committee) যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তা আগামী দু'দিনের মধ্যে মামলাকারী কর্মী সংগঠনগুলির (রেসপন্ডেন্ট) হাতে তুলে দিতে হবে। আগামী ১৮ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আজকের শুনানির মূল বিষয়গুলি
- মনিটরিং কমিটির রিপোর্ট: সুপ্রিম কোর্ট এর আগে বকেয়া ডি এ মেটানোর রীতিনীতি, শর্তাবলি ও রূপরেখা নির্ধারণের জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি সম্প্রতি তাদের রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে শীর্ষ আদালতে জমা দেয়। আদালত সেই খাম খুলেও দেখেছে। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, ওই রিপোর্টের কোনো প্রতিলিপি মামলাকারী কর্মী সংগঠনগুলোকে দেওয়া হয়নি।
- আদালতের নির্দেশ: বিষয়টি নজরে আসতেই সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল বেঞ্চ নির্দেশ দেয় যে, আগামী দু'দিনের মধ্যে মনিটরিং কমিটিকে তাদের এই রিপোর্ট রেসপন্ডেন্টদের (অর্থাৎ ডি এ মামলার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মী সংগঠনকে) ফরওয়ার্ড করতে হবে।
- রিপোর্ট পর্যালোচনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ: রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর কর্মী সংগঠনগুলি খতিয়ে দেখবে যে, এআইসিপিআই (AICPI) সূচক অনুযায়ী মনিটরিং কমিটি ডি এ মেটানোর ক্ষেত্রে ঠিক কী কী সুপারিশ করেছিল এবং রাজ্য সরকার বাস্তবে তা কতটা কার্যকর করেছে। যদি দেখা যায় কমিটির সুপারিশ এবং রাজ্যের পদক্ষেপে ফারাক রয়েছে, তবে কর্মী সংগঠনগুলি লিখিতভাবে তাদের আপত্তি জানাতে পারবে।
- গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বঞ্চনা: আগামী ১৮ আগস্ট পরবর্তী শুনানিতে কর্মী সংগঠনগুলির আইনজীবীরা সরাসরি আদালতে তাদের বক্তব্য পেশ করবেন। উল্লেখ্য, কর্মী সংগঠনগুলির অভিযোগ, গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) ভুক্ত কর্মরত কর্মী, পেনশনার বা ফ্যামিলি পেনশনাররা এখনও পর্যন্ত বকেয়া ডি এ বাবদ এক পয়সাও পাননি। পাশাপাশি ডি এ-র হিসাব-নিকাশেও বড়সড় গরমিলের অভিযোগ রয়েছে।
আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য
এই মামলায় কর্মীদের পক্ষের অন্যতম প্রধান আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করেছিল। এদিন ওই কমিটির একটি রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই রিপোর্টটি তাঁদের হাতে এসে পৌঁছায়নি এবং রিপোর্ট সম্পর্কে তাঁদের কোনো মতামতও আদালত জানতে চায়নি। এই কারণে আদালত ওই রিপোর্টটি তাঁদের কাছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে তাঁরা সেটি পর্যালোচনা করে নিজেদের বক্তব্য পেশ করতে পারেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৮ আগস্ট। ওই দিনই আদালত নির্ধারণ করবে যে, রাজ্য সরকার সকল সরকারি কর্মীকে সঠিকভাবে ডি এ দিচ্ছে কি না।
আগামী ১৮ আগস্টের শুনানি থেকে কোনো সুখবর আশা করা যায় কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, "আমরা তো আশাবাদী। আমরা অনেক লড়াই করে এই মামলায় একটা রায় আদায় করেছি, আর এই রায়টা সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসে একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কড়া রায়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করে এ ধরনের নির্দেশিকা দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এর থেকেই বোঝা যায় যে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে চায়, কর্মীদের যা ডি এ প্রাপ্য, তা তাঁদের দিতেই হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সুপ্রিম কোর্ট ডি এ মামলায় কী নির্দেশ দিয়েছে?
সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, বকেয়া ডি এ মেটানোর বিষয়ে 'ইন্দু মালহোত্রা মনিটরিং কমিটি' যে রিপোর্ট জমা দিয়েছে, তা আগামী দু'দিনের মধ্যে মামলাকারী কর্মী সংগঠনগুলির হাতে তুলে দিতে হবে।
২. সুপ্রিম কোর্টে ডি এ মামলার পরবর্তী শুনানি কবে?
বকেয়া ডি এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ১৮ আগস্ট।
৩. মনিটরিং কমিটির রিপোর্ট হাতে পেয়ে কর্মী সংগঠনগুলি কী করবে?
রিপোর্ট খতিয়ে দেখে কর্মী সংগঠনগুলি মূল্যায়ন করবে যে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার ঠিকমতো ডি এ মিটিয়েছে কি না। কোনো ফারাক থাকলে তারা আদালতে লিখিত আপত্তি জানাবে।