কলকাতা/নয়াদিল্লি: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (West Bengal DA Case) মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টে নতুন বাঁক। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং বিচারপতি টি কে মিশ্রের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। তবে, এই দিনের শুনানিতে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশ না দিয়ে পুরো বিষয়টি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটির (Indu Malhotra Committee) কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
এআইসিপিআই (AICPI) অনুযায়ী ডিএ-র দাবি ও বকেয়া না পাওয়ার অভিযোগ
'কনফেডারেশন অফ স্টেট গভমেন্ট এমপ্লয়েজ'-এর পক্ষ থেকে এদিন সুপ্রিম কোর্টে লিখিত বক্তব্য দাখিল করা হয়। তাদের মূল দাবি হলো, সর্বোচ্চ আদালতের পূর্বের নির্দেশ অনুযায়ী অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) মেনেই মহার্ঘ ভাতা বা ডিয়ারনেস রিলিফ ক্যালকুলেশন করতে হবে। কোনোভাবেই রাজ্যভিত্তিক সিপিআই (State-based CPI) কার্যকর করা যাবে না।
কর্মচারী সংগঠনের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও নেতৃত্ব জানান, এখনও লক্ষ লক্ষ কর্মী বকেয়া মহার্ঘ ভাতার সুফল পাননি। বিশেষ করে, গ্রান্ট-ইন-এড ইনস্টিটিউশনের কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা, চুক্তিভিত্তিক এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের অ্যাকাউন্টে কোনো বকেয়া ডিএ ঢোকেনি।
শুনানিতে কী যুক্তি উঠল? ৪১,৭৭০ কোটি টাকার হিসেব ও বেস পয়েন্ট বিতর্ক
আদালতে রাজ্য সরকারের পক্ষের আগের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় মোট ৪১,৭৭০ কোটি টাকা রিলিজ করার কথা ছিল। অথচ বর্তমানে দাবি করা হচ্ছে যে মাত্র ৭,০০০ কোটি টাকা রিলিজ হয়েছে। বাকি বিপুল টাকা এখনো কেন বকেয়া রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী শামিম।
এছাড়াও, ডিএ ক্যালকুলেশনে রাজ্য সরকারের 'বেস পয়েন্ট' পরিবর্তনের অভিযোগ আনা হয়েছে। রোপা ২০০৯ (ROPA 2009) নিয়ম অনুযায়ী যেখানে ৫৩৬-কে বেস পয়েন্ট ধরার কথা, সেখানে রাজ্য সরকার ১২ মাসের গড় করে এটিকে ৬০৫-এ নিয়ে গেছে। এর ফলেই কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ বিপুল হারে কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইন্দু মালহোত্রা কমিটিতে ফয়সালার নির্দেশ ও কর্মচারীদের হতাশা
সুপ্রিম কোর্ট এদিন স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, ডিএ ক্যালকুলেশন ও বকেয়া সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতার নিরসন হবে ইন্দু মালহোত্রা কমিটিতে। এই কমিটিতে মামলাকারী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কনফেডারেশন তাদের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই প্রতিনিধিদের নাম জমা দিয়েছে।
দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই মামলায় আজকের এই নির্দেশে কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেছেন কর্মী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, মামলাটি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তাঁরা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।
ডিএ মামলার সম্পূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা ও সংগঠনের বক্তব্য শুনুন:
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানিতে কী নির্দেশ দেওয়া হলো?
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল ও বিচারপতি টি কে মিশ্রের বেঞ্চ ডিএ ক্যালকুলেশন ও বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতার সমাধানের জন্য পুরো বিষয়টি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
২. কর্মচারী সংগঠনগুলির মূল দাবি কী ছিল?
কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রধান দাবি হলো, রোপা ২০০৯ এবং অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) অনুযায়ী বেস পয়েন্ট ৫৩৬ ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে।
৩. রাজ্য সরকারের ডিএ ক্যালকুলেশন নিয়ে কী অভিযোগ উঠেছে?
অভিযোগ উঠেছে যে, রাজ্য সরকার নিয়মবহির্ভূতভাবে বেস পয়েন্ট ৫৩৬-এর বদলে ১২ মাসের গড় করে ৬০৫ ধরেছে, যার ফলে কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র পরিমাণ অনেকটাই কমে গেছে।