মা আসছে ...

‘তথ্যের অভাবের অজুহাত হাস্যকর!’ গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের বকেয়া নিয়ে রাজ্যকে চরম হুঁশিয়ারি শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের

Shikshanuragi Oikya Mancha demands pending arrears DA grant in aid employees
Graphics: SE

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের (State Government Employees) একাংশ বকেয়া মেটানোর পদক্ষেপে কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও, গ্র্যান্ট-ইন-এড (Grant-in-Aid) কর্মীদের ক্ষেত্রে বঞ্চনার অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। রাজ্য সরকারের 'তথ্যের অভাব'-এর যুক্তিতে বকেয়া না মেটানোর বিষয়টিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করল ‘শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ’ (Shikshanuragi Oikya Mancha)। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী এক ভিডিও বার্তায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে বকেয়া ডি এ (DA) ও অন্যান্য পাওনা না মেটালে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন চরম ক্ষুব্ধ কর্মীরা।

তথ্যের অভাব নাকি সদিচ্ছার অভাব?

সম্প্রতি একটি খবর প্রকাশ্যে আসে যেখানে বলা হয়, রাজ্য সরকার গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের (বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্তদের) বকেয়া বা এরিয়ার (Arrears) মেটাতে পারছে না কারণ সরকারের কাছে নাকি পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এই অদ্ভুত যুক্তিকে সম্পূর্ণ "হাস্যকর" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কিংকর অধিকারী (Kingkar Adhikari)।

  • তাঁর দাবি, ২০০৮ সাল থেকে সমস্ত কর্মীর তথ্য সার্ভিস বুকে (Service Book) স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
  • তথ্য সংগ্রহে সত্যিই যদি কোনো আইনি বা প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকে, তবে সরকারের উচিত অবিলম্বে গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের সংগঠনগুলির সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসা।
  • তিনি অভিযোগ করেন, এটি কোনোভাবেই তথ্যের অভাব নয়, বরং বকেয়া না মেটানোর পিছনে সরকারের সদিচ্ছার চরম অভাব।

প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ ও প্রশাসনের নীরবতা

কিংকরবাবু ক্ষোভের সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আগে হাজারো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলেই সরকারি কর্মচারীদের (WB DA News) সমস্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে।

কিন্তু বাস্তবে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী—সকলেই এই বিপুল বকেয়া মেটানোর বিষয়ে একেবারে নিশ্চুপ (স্পিকটি নট)। বিভিন্ন মহলে শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি নির্দেশিকা (Notification) বা বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। পূর্ববর্তী সরকারের দেওয়া নোটিশ থাকলেও বর্তমান সরকার সেই অনুযায়ী কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেয়নি বলে তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ।

সংগঠনের দাবি ও চরম হুঁশিয়ারি

গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরাও রয়েছেন। শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে:

  1. সুপ্রিম কোর্টের রায় (Supreme Court DA Verdict WB) মেনে অবিলম্বে গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের সমস্ত বকেয়া ও মহার্ঘ ভাতা (DA) মিটিয়ে দিতে হবে।
  2. কোনো ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা কাটাতে দ্রুত কর্মী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনায় বসে সমাধান সূত্র বের করতে হবে।

কিংকর অধিকারী স্পষ্ট জানান, কর্মীরা এতদিন যথেষ্ট ধৈর্য ধরে থাকলেও এই বঞ্চনা অনন্তকাল চলতে পারে না। রাজ্যের সমস্ত স্তরের গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। সরকার দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে তাঁরা বাধ্য হয়ে পথে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ রাজ্য সরকারকে কী হুঁশিয়ারি দিয়েছে?

সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে অবিলম্বে গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের বকেয়া ডি এ (DA) ও অন্যান্য পাওনা না মেটালে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ।

২. রাজ্য সরকার বকেয়া না মেটানোর কী কারণ দেখিয়েছে?

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, গ্র্যান্ট-ইন-এড কর্মীদের (বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্তদের) পর্যাপ্ত তথ্য সরকারের কাছে না থাকায় বকেয়া মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।

৩. তথ্যের অভাবের যুক্তিকে সংগঠন কীভাবে খণ্ডন করেছে?

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানিয়েছেন যে, ২০০৮ সাল থেকে সমস্ত কর্মীর তথ্য সার্ভিস বুকে স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত রয়েছে। তাই এটি কোনোভাবেই তথ্যের অভাব নয়, বরং সরকারের সদিচ্ছার অভাব।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in