ভারত থেকে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে। বুধবার (৫ অগাস্ট, ২০২৬) ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া-র (FCC) উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে শেখ হাসিনা ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আর এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। একইসঙ্গে, ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কারণে প্রাক্তন ক্রিকেটার ও আওয়ামি লিগের সাংসদ শাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
কী বলেছেন শেখ হাসিনা?
২০২৪ সালের অগাস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে পড়ে দেশ ছাড়ার পর, এই প্রথমবার প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন শেখ হাসিনা। নিরাপত্তার কারণে ক্যামেরা বন্ধ রেখেই তিনি তাঁর বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, "গত দু'বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ চরম কষ্ট ভোগ করছেন এবং সর্বত্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই ভয়ের রাজত্ব শেষ করতে আগামী ডিসেম্বরেই আমি দেশে ফিরব, তাতে যদি আমার প্রাণও যায়।"
উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বরে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ৪৫৩টি হত্যার অভিযোগ-সহ মোট ৬৬৩টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগ এবং রায় তিনি খারিজ করে দিয়েছেন।
শাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা
হাসিনার এই সাংবাদিক বৈঠকের রেশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের রাস্তায়। ওই ভার্চুয়াল বৈঠকে শাকিব আল হাসানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শাকিবের মাগুরার পৈতৃক বাড়িতে পাথর ছোঁড়ে এবং পেট্রোল বোমা নিয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। শুধু শাকিবের বাড়িতেই নয়, বাংলাদেশের একাধিক শহরে শেখ হাসিনার কুশপুতুল দাহ করে এবং তাঁর প্রত্যর্পণের দাবিতে পথে নামে সাধারণ মানুষ।
ক্ষুব্ধ ঢাকা, ভারতের কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ
শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটি থেকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক। একটি বিবৃতিতে তারা এই ঘটনাকে "বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের চরম অপমান" এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি "মারাত্মক অবমাননা" বলে আখ্যা দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে:
- প্রত্যর্পণের দাবি: ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ঢাকা একাধিকবার ভারতকে অনুরোধ করেছে। কিন্তু ভারত এখনও কোনো উত্তর দেয়নি।
- কূটনৈতিক প্রভাব: পলাতক এক আসামিকে গণমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে দেওয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা। একে তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছে।
- ইতিহাস পরিবর্তনের চেষ্টা: রাষ্ট্রপুঞ্জ দ্বারা প্রমাণিত জুলাই-অগাস্টের ছাত্র হত্যার বিষয়গুলো অস্বীকার করার চেষ্টা করছেন হাসিনা। এটিকে ইতিহাস পরিবর্তনের একটি বৃথা চেষ্টা বলে দাবি করেছে ঢাকা।
অন্যদিকে, ভারতীয় আধিকারিকরা আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন যে, স্বাধীন প্রেস ক্লাবের এই আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো প্রত্যক্ষ যোগাযোগ নেই। শেখ হাসিনার এই ঘোষণা এবং বাংলাদেশের কড়া অবস্থানের পর ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. শেখ হাসিনা কবে বাংলাদেশে ফেরার কথা জানিয়েছেন?
নয়াদিল্লি থেকে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
২. শাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে কেন হামলা হয়েছে?
শেখ হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে শাকিব আল হাসান উপস্থিত ছিলেন, এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভকারীরা তাঁর মাগুরার পৈতৃক বাড়িতে পাথর ছোঁড়ে এবং পেট্রোল বোমা নিয়ে হামলা চালায়।
৩. এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকার কী প্রতিক্রিয়া দিয়েছে?
পলাতক আসামিকে ভারতের মাটি থেকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক একে 'সার্বভৌমত্বের চরম অপমান' আখ্যা দিয়ে ভারতের কাছে কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।