সুরশ্রী ব্যানার্জী, কলকাতা: গত ৭ই আগস্ট শুক্রবার, কলকাতার বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট-এর লীলা রায় হলে 'ডাঃ বি সি রায় মেমোরিয়াল সোসাইটি' এবং 'এবং অনপেক্ষ'-এর যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ সাহিত্য বাসরের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক মহিবুর রহমানের লেখা তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থ "মুর্শিদাবাদের আলোছায়া"-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সাহিত্যিকদের মহামিলন ও বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি
এই দিন লীলা রায় হল কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, বাচিক শিল্পী, গবেষক এবং সাহিত্যপ্রেমীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। অতিথিদের বরণ, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং একটি মনোজ্ঞ উদ্বোধনী সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বইটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং প্রাবন্ধিক পদ্মশ্রী কাজি মাসুম আখতার। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক সৈয়দ হাসমত জালাল, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডাঃ জহর মজুমদার, কবি শ্যামল জানা, চিত্র পরিচালক বাদল সাহা, কবি নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কবি প্রদীপ গুপ্ত, কবি পিনাকী রায়, কবি সুদীপ্তা রায়চৌধুরী মুখার্জী, শিক্ষিকা ও কবি জাহানারা রহমান সহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
কৃতী সম্মাননা প্রদান
বই প্রকাশের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কৃতী ব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান। এই দিন "ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় স্মৃতি সম্মান -২০২৬" প্রদান করা হয় বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অভিজিৎ চৌধুরীকে। অন্যদিকে, "ডাঃ জয়নাল আবেদিন স্মৃতি সম্মান -২০২৬" তুলে দেওয়া হয় বিশিষ্ট কবি সৌমিত বসুর হাতে। অতিথিবৃন্দ সম্মানপ্রাপকদের ব্যাজ পরিয়ে ও উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়ার পর তাঁদের হাতে তুলে দেন বিশেষ স্মারক, সম্মাননা পত্র এবং বই।
সাহিত্য আলোচনা ও 'মুর্শিদাবাদের আলোছায়া' প্রসঙ্গে
অনুষ্ঠানে সাহিত্য নিয়ে চমৎকার আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক নীলাঞ্জন শান্ডিল্য। তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল 'প্রেমের কবি নজরুল'। এছাড়াও কবি অদীপ ঘোষ 'রবীন্দ্রনাথের জীবনে সমাজ ভাবনা' বিষয়ে তাঁর সুচিন্তিত মতামত ব্যক্ত করেন।
কথাসাহিত্যিক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, শিক্ষাবিদ পদ্মশ্রী কাজি মাসুম আখতার, কবি সৈয়দ হাসমত জালাল, ডাঃ জহর মজুমদার সহ উপস্থিত প্রায় সব বক্তাই মহিবুর রহমানের লেখা এই বইটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করেন যে, এমন একটি তথ্যবহুল বই প্রত্যেকের পড়া উচিত এবং এই বইটি স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তক হওয়ার উপযুক্ত দাবি রাখে।
নিজের বই সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক মহিবুর রহমান একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন, "মুর্শিদাবাদ শুধুমাত্র মানচিত্রের একটা জেলা নয়, এটি আসলে বাংলার ইতিহাস, আবেগ আর দীর্ঘশ্বাসের এক জীবন্ত দলিল। ভাগীরথী নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই জনপদের ধুলোবালি ঘাঁটলে আজও যেমন নবাবী আমলের সুগন্ধ পাওয়া যায়, তেমনি কান পাতলে শোনা যায় পলাশির প্রান্তরের সেই ট্র্যাজেডির প্রতিধ্বনি। এই আলো আর ছায়ার খেলা নিয়েই আমার এই বই - 'মুর্শিদাবাদের আলোছায়া'।"
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন কবি বিশ্বজিৎ রায় এবং পর্ণালী ব্যানার্জী।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. 'মুর্শিদাবাদের আলোছায়া' বইটি কার লেখা?
'মুর্শিদাবাদের আলোছায়া' বইটি বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক মহিবুর রহমানের লেখা একটি তথ্যসমৃদ্ধ গ্রন্থ।
২. কোথায় এই বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হয়?
বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ কলকাতার বিপিন বিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট-এর লীলা রায় হলে অনুষ্ঠিত হয়।
৩. এই সাহিত্য বাসরে কাদের স্মৃতি সম্মান প্রদান করা হয়?
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক অভিজিৎ চৌধুরীকে "ডাঃ বিধান চন্দ্র রায় স্মৃতি সম্মান -২০২৬" এবং কবি সৌমিত বসুকে "ডাঃ জয়নাল আবেদিন স্মৃতি সম্মান -২০২৬" প্রদান করা হয়।