কলকাতা: সামনেই মনসা পুজো, এরপর বিশ্বকর্মা, আর তারপরই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা (Durga Puja)। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালে পুজোর মরশুম কড়া নাড়লেও, কুমোরটুলি (Kumartuli) সহ বিভিন্ন মৃৎশিল্পীদের পাড়া বা কারখানাগুলোতে এখনও সেই চেনা ব্যস্ততা ও উদ্দীপনার অভাব স্পষ্ট।
সাধারণত এই সময়টায় কুমোরটুলি থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মৃৎশিল্পীদের কারখানাগুলো দিনরাত এক করে প্রতিমা তৈরির কাজে মগ্ন থাকে। বাঁশ, খড়, মাটি আর শিল্পীর হাতের জাদুতে মণ্ডপে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে এক একটা প্রতিমা। কিন্তু এ বছর চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন।
কী কারণে প্রতিমা তৈরিতে ভাটা?
মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, এই বছর কাজের গতি কমার পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
- সরকারি অনুদানের ধোঁয়াশা: রাজ্যে সম্প্রতি নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ক্লাবগুলোকে পুজোর জন্য সরকারি অনুদান (Government Grant) দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নেই। এর ফলে অনেক ক্লাবই এখনও বাজেটের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি এবং প্রতিমার বরাত দেওয়া থেকে পিছিয়ে আসছে বা ছোট প্রতিমার অর্ডার দিচ্ছে।
- উপকরণের মূল্যবৃদ্ধি: প্রতিমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় খড়, বাঁশ, মাটি, রং থেকে শুরু করে সমস্ত সাজসজ্জার জিনিসের দাম একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। যার ফলে প্রতিমা তৈরির খরচও বেড়েছে।
শিল্পীদের কী বক্তব্য?
এক প্রবীণ মৃৎশিল্পী আক্ষেপের সুরে বলেন, "আগামী ১৮ আগস্ট মনসা পুজো। সাধারণত এই সময়ে মনসা প্রতিমার পাশাপাশি বিশ্বকর্মা ও দুর্গা প্রতিমার কাজও অনেকটা এগিয়ে যায়। কিন্তু এবছর কাজের সেই জোরটাই নেই। একদিকে জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া, অন্যদিকে ক্লাবগুলোও অর্ডার দিতে ভয় পাচ্ছে। সরকার অনুদান না দিলে অনেক ছোট ক্লাব হয়তো পুজোই করতে পারবে না।"
ক্লাবগুলোর অনিশ্চয়তা এবং বাজারে জিনিসপত্রের দাম— এই জোড়া ফলায় এখন কার্যত দিশেহারা মৃৎশিল্পীরা। অনেকেই কাজ শুরু করলেও তা এগোচ্ছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয় এবং সরকারি অনুদান নিয়ে ধোঁয়াশা না কাটে, তবে এবারের পুজোয় মৃৎশিল্পীদের রোজগারে বড়সড় টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. কুমোরটুলিতে প্রতিমা তৈরির কাজে এবার ভাটা কেন?
মূলত সরকারি অনুদান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং প্রতিমা তৈরির উপকরণের মাত্রাতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির কারণে কুমোরটুলিতে এবার কাজের গতি কম।
২. সরকারি অনুদান নিয়ে কী ধোঁয়াশা রয়েছে?
রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর ক্লাবগুলোকে দুর্গাপূজার জন্য সরকারি অনুদান দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নেই, যার ফলে ক্লাবগুলো বাজেটের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না।
৩. মৃৎশিল্পীদের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন?
অর্ডার কম আসা এবং জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় শিল্পীরা অত্যন্ত দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। অনেক শিল্পীই জানিয়েছেন, সরকারি অনুদান না পেলে ছোট ক্লাবগুলো পুজোই করতে পারবে না।