মা আসছে ...

অরুণাচল প্রদেশে চিনের ৬০ কিমি অনুপ্রবেশের দাবি খারিজ, প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরলেন কিরেণ রিজিজু

Kiren Rijiju rejects China 60km intrusion Arunachal Pradesh border reality
Graphics: SE

নয়াদিল্লি/ইটানগর: সম্প্রতি বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি বা পিএলএ (PLA) অরুণাচল প্রদেশের (China Intrusion Arunachal Pradesh) আনজাও জেলার চাগলাগাম এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডের ৬০ কিলোমিটার গভীরে প্রবেশ করেছে। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অরুণাচল প্রদেশের সাংসদ কিরেণ রিজিজু (Kiren Rijiju Statement)।

বাংলাদেশের ছবি ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো খবর

রিজিজু স্পষ্ট করেছেন যে, এই ধরনের ভুয়ো খবর (PLA Incursion Fake News) ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং নিরাপত্তারক্ষীদের মনোবল ভেঙে দিতে পারে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। তিনি জানান, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে ব্যবহৃত ছবিগুলো যাচাই করা হয়নি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ছবি ব্যবহার করে চিনা অনুপ্রবেশের ভুয়ো দাবি করা হয়েছে। দেশবাসীকে এই ধরনের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ভারত-চিন সীমান্তে বা LAC-তে প্রকৃত পরিস্থিতি কী?

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, অরুণাচল প্রদেশের ভারত-চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি (India China Border LAC) এখনও সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। বেশ কিছু এলাকায় কোনো সীমানা পিলারের অস্তিত্ব নেই।

এই অচিহ্নিত সীমানার কারণে অনেক সময় দুই দেশের সেনাই টহল দেওয়ার সময় একে অপরের ভূখণ্ডের কাছাকাছি চলে আসে। তবে এটিকে কোনোভাবেই সামরিক 'অনুপ্রবেশ' বা 'দখল' বলা চলে না। রিজিজু আরও জানান, চিন সীমান্ত সংলগ্ন উঁচু এলাকাগুলোতে (High ridgelines) রাস্তা ও অন্যান্য সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করছে। তবে তার মানে এই নয় যে তারা ভারতের কোনো গ্রাম দখল করেছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা চিনা সেনাবাহিনীর গতিবিধি নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

পরিকাঠামো উন্নয়নে ২০১৪-র পর থেকে বড় বদল

কিরেণ রিজিজু পূর্ববর্তী ইউপিএ সরকারের নীতি নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনির একটি পুরনো বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, আগে সুরক্ষার কারণে সীমান্তে রাস্তাঘাট তৈরি করা হতো না, অথচ চিন নিজেদের দিকে পরিকাঠামো তৈরি করে যাচ্ছিল।

কিন্তু ২০১৪ সালের পর থেকে এই নীতিতে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে (Indian Army Border Infrastructure)। বর্তমানে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO), ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং আইটিবিপি (ITBP) যৌথভাবে অরুণাচলের দুর্গম এলাকাগুলোতে রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরি করছে। ২০১৯ সালে টাকসিং (Taksing) এবং আসাপিলা রেঞ্জের মাজা (Maza)-র মতো দুর্গম এলাকায় রাস্তা নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি রিজিজু গালিমো (Galemo) সহ বেশ কয়েকটি দুর্গম এলাকা পরিদর্শন করে পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ খতিয়ে দেখেছেন।

দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে রিজিজু বলেছেন, "ভারত-চিন সীমান্ত সমস্যা অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই বিষয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো উচিত নয়। সরকার অতীতের ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি করবে না এবং স্থানীয় মানুষের সুরক্ষা ও ভারতীয় ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।"

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. অরুণাচলে চিনা অনুপ্রবেশ নিয়ে কিরেণ রিজিজু কী জানিয়েছেন?

কিরেণ রিজিজু স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, অরুণাচলের চাগলাগাম এলাকায় চিনের ৬০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশের যে দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়ো ও ভিত্তিহীন।

২. সীমান্তে দুই দেশের সেনা কাছাকাছি চলে আসার কারণ কী?

ভারত-চিন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC) এখনও সম্পূর্ণভাবে চিহ্নিত করা হয়নি এবং অনেক জায়গায় সীমানা পিলার নেই। এই কারণেই টহল দেওয়ার সময় অনেক সময় দুই দেশের সেনা একে অপরের কাছাকাছি চলে আসে, যাকে দখল বলা যায় না।

৩. সীমান্ত পরিকাঠামো উন্নয়নে ভারত কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

২০১৪ সালের পর থেকে BRO, ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং ITBP যৌথভাবে অরুণাচলের দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেমন টাকসিং ও মাজায়, নতুন রাস্তা ও সামরিক পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in