জেরুজালেম: ১৭০০ বছর ধরে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, জেরুজালেমের ‘চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকার’-এর (Church of the Holy Sepulchre) নিচেই রয়েছে যিশু খ্রিস্টের আসল সমাধি (Jesus Tomb Jerusalem)। চতুর্থ শতাব্দীতে রোমান সম্রাট কনস্ট্যানটাইনের আমলে নির্মিত এই গির্জার নিচে সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর এই প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজেই (Archaeological Discovery Israel) উঠে এসেছে এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা বাইবেলের ‘গসপেল অফ জন’-এ (Gospel of John Evidence) বর্ণিত যিশুর সমাধিস্থলের বর্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যাচ্ছে।
কী আবিষ্কার করলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা?
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, রোমের স্যাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির (Sapienza University Rome) প্রখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক ফ্রান্সেসকা রোমানা স্টাসোল্লার নেতৃত্বে ২০২২ সাল থেকে এই গির্জার মেঝে সংস্কার ও খননের কাজ চলছিল।
- প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র ও বাগান: খননকাজে গির্জার নিচে একটি প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র বা ফিউনারারি ল্যান্ডস্কেপের খোঁজ মিলেছে। পাথরের ভেতর খোদাই করা একাধিক সমাধির পাশাপাশি সেখানে একটি প্রাচীন কৃষিভূমি বা বাগানের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
- গাছপালার জীবাশ্ম: আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাটি পরীক্ষা করে ওই এলাকা থেকে প্রায় দু'হাজার বছরের পুরোনো জলপাই, আঙুর এবং ডুমুর গাছের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার হয়েছে।
- বাইবেলের সঙ্গে সাদৃশ্য: গসপেল অফ জন (১৯:৪১)-এ স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, যিশুকে যেখানে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল, তার কাছাকাছি একটি বাগানের মধ্যে পাথরে খোদাই করা নতুন একটি সমাধি ছিল। খননে প্রাপ্ত তথ্য ও পরিবেশগত প্রমাণ এই বর্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
যিশুর সমাধিস্থল নিয়ে জোরালো জল্পনা
প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, সমাধির চারপাশের এই কৃষিভূমির অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে ওই এলাকাটি কোনো অভিজাত বা ধনী ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। বাইবেল অনুসারে, আরিমাথিয়ার জোসেফ নামক এক ধনী ব্যক্তি যিশুর দেহকে নিজের একটি নতুন পাথরের সমাধিতে সমাহিত করেছিলেন।
যদিও ফ্রান্সেসকা রোমানা স্টাসোল্লা এবং তাঁর দল স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই আবিষ্কার সরাসরি প্রমাণ করে না যে এটিই যিশুর আসল সমাধি। তবে, বাইবেলে বর্ণিত পরিবেশের সঙ্গে এই স্থানের এত নিবিড় সাদৃশ্য এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে যে, আদি খ্রিস্টানরা সম্ভবত যিশুর প্রকৃত সমাধিস্থলটিই যথাযথভাবে সংরক্ষণ করেছিলেন।
জাপানের শিংগো গ্রামে যিশুর সমাধি!
যিশুর সমাধি নিয়ে জেরুজালেমে যখন প্রত্নতাত্ত্বিকরা বৈজ্ঞানিক ইতিহাস খুঁজছেন, তখন জাপানের একটি অদ্ভুত লোককথার কথাও প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে আসে। জাপানের আওমোরি প্রিফেকচারের শিংগো (Shingo Village Japan Jesus Tomb) গ্রামে একটি স্থানকে ‘যিশুর কবর’ (Kirisuto no Haka) বলে দাবি করা হয়।
স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী, যিশু ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যাননি। তাঁর বদলে তাঁর ভাই ইসুকিরি ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন। যিশু সাইবেরিয়া হয়ে পালিয়ে গোপনে জাপানে চলে আসেন এবং শিংগো গ্রামে ১০৬ বছর বয়স পর্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করেন। যদিও ঐতিহাসিক বা বৈজ্ঞানিকভাবে এই দাবির কোনো প্রামাণ্য ভিত্তি নেই এবং এটি নিছকই একটি কল্পকাহিনী, তবুও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে শিংগো গ্রামের এই 'যিশুর সমাধি' আজও একটি অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. জেরুজালেমে যিশুর সমাধিস্থলে কী আবিষ্কার করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা?
জেরুজালেমের 'চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকার'-এর নিচে খননকাজে একটি প্রাচীন সমাধিক্ষেত্র এবং তার চারপাশে কৃষিভূমি বা বাগানের খোঁজ মিলেছে, যেখান থেকে দু'হাজার বছরের পুরোনো জলপাই ও ডুমুর গাছের অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে।
২. বাইবেলের বর্ণনার সঙ্গে এই খননকাজের কী মিল পাওয়া গেছে?
বাইবেলের ‘গসপেল অফ জন’-এ উল্লেখ আছে যে, যিশুকে যেখানে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল তার কাছেই বাগানের মাঝে একটি নতুন সমাধি ছিল। খননকাজে পাওয়া সমাধিক্ষেত্র ও বাগানের প্রমাণ এই বর্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
৩. জাপানের শিংগো গ্রামের সঙ্গে যিশুর কী সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করা হয়?
জাপানের একটি অদ্ভুত লোককথা অনুযায়ী, যিশু ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যাননি, বরং পালিয়ে জাপানের শিংগো গ্রামে এসে ১০৬ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচেছিলেন। ওই গ্রামে একটি স্থানকে আজও 'যিশুর কবর' বলে দাবি করা হয়।