হুগলি: গ্রাম আছে, গ্রামবাসীও আছেন, অথচ সরকারি খাতায় বা পোর্টালে গ্রামের কোনও অস্তিত্বই নেই! দেশ জুড়ে জনগণনার (Census) প্রস্তুতি শুরু হতেই নিজেদের অস্তিত্বের সংকটে ভুগছেন হুগলি জেলার একটি আড়াইশো বছরের পুরনো গ্রামের বাসিন্দারা। গ্রামটির নাম খলসী (Khalsi)। এই অভাবনীয় এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হুগলি জেলার চুঁচুড়া-মগড়া ব্লকের হোয়েরা দিগসুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
কী সমস্যা খলসী গ্রামের?
হোয়েরা দিগসুই গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে মোট ১৮টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি গ্রামের নির্দিষ্ট সেনসাস কোড (Census Code) বা জনগণনার কোড রয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধুমাত্র 'খলসী'। এই গ্রামে প্রায় ২২০০ মানুষের বাস এবং ভোটারের সংখ্যা ১২০০-র বেশি। অথচ, সরকারি পোর্টালে এই গ্রামের নামই বাদ পড়ে গেছে!
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই গ্রামটি এখানে থাকলেও, ডিজিটাল রেকর্ডে এর কোনও উল্লেখ নেই। ফলস্বরূপ সরকারি বিভিন্ন পরিষেবা থেকে তাঁরা চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন। পোর্টালে নাম না থাকায় সদ্যোজাত শিশুর জন্মের শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করা যাচ্ছে না, আধার কার্ডে ঠিকানা সংশোধন করা যাচ্ছে না। এমনকি ডাকযোগে আসা জরুরি চিঠি বা পার্সেলও অনেক সময় ঠিকানা না পেয়ে ফিরে যায় অথবা এক কিলোমিটার দূরের দিগসুই গ্রামের ঠিকানায় ডেলিভারি হয়।
প্রশাসনের দ্বারস্থ গ্রামবাসীরা
চলতি জনগণনার (Census 2027) কাজ শুরু হতেই বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে ওঠে। প্রথম পর্যায়ের সেলফ-এনুমারেশনের (Self Enumeration) কাজে পোর্টালে নিজেদের গ্রামের নাম খুঁজে না পেয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। এরপরই তাঁরা ব্লক আধিকারিক (BDO), মহকুমাশাসক (SDO), জেলাশাসক (DM) থেকে শুরু করে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও লিখিতভাবে সমস্যা সমাধানের আর্জি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদরী জানিয়েছেন, "এটি মূলত ম্যাপিং এবং একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি। ওই গ্রামটিকে নতুন করে ম্যাপিং করতে হবে। আমরা ইতিমধ্যেই সেনসাসের ডিরেক্টরকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করা যায় দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।"
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে একটি গোটা গ্রামের নাম কীভাবে সরকারি রেকর্ড থেকে উধাও হয়ে গেল, তা নিয়ে স্বভাবতই প্রশ্ন তুলছেন খলসীর হতাশ বাসিন্দারা। এখন প্রশাসন কবে এই ভুলের সংশোধন করে তাঁদের গ্রামের আইনি স্বীকৃতি ফিরিয়ে দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. হুগলির কোন গ্রামের নাম সরকারি পোর্টাল থেকে বাদ পড়েছে?
চুঁচুড়া-মগড়া ব্লকের হোয়েরা দিগসুই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত আড়াইশো বছরের পুরনো 'খলসী' (Khalsi) গ্রামের নাম সরকারি পোর্টাল থেকে বাদ পড়েছে।
২. পোর্টালে নাম না থাকায় গ্রামবাসীদের কী কী সমস্যা হচ্ছে?
পোর্টালে নাম না থাকায় গ্রামবাসীরা বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি, আধার কার্ডে ঠিকানা সংশোধন বা ডাকযোগে চিঠি ও পার্সেল পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
৩. জেলা প্রশাসন এই বিষয়ে কী জানিয়েছে?
হুগলির জেলাশাসক জানিয়েছেন, এটি মূলত একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও ম্যাপিংয়ের সমস্যা। সেনসাস ডিরেক্টরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং দ্রুত ম্যাপিং করে সমস্যা মেটানো হবে।