কলকাতা: রাজ্যের হাজার হাজার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানের চরম অবনতির অভিযোগ তুলে, অবিলম্বে ২০ হাজারেরও বেশি শূন্যপদে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের (Higher Secondary Teacher Recruitment) দাবি জানাল শিক্ষক সংগঠন APGTWA। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী এবং শিক্ষা কমিশনারকে একটি কড়া চিঠি দিয়ে এই দাবি পেশ করা হয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে রাজ্যের স্কুলগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নতুন করে কোনো স্থায়ী পোস্ট অনুমোদন করা হয়নি, যার ফলে শিক্ষার মান নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কী কী দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠন (APGTWA)?
শিক্ষক সংগঠনের পাঠানো ওই চিঠিতে রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পঠনপাঠন স্বাভাবিক ও উন্নত করতে আট দফা গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়েছে:
- স্থায়ী বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ: উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পঠিত প্রতিটি বিষয়ের জন্য স্থায়ী ও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে (যদি ওই বিষয়ে পরপর তিন বছর স্কুল থেকে পরীক্ষার্থী থাকে)।
- অনুমোদিত পোস্টের পুনর্বিন্যাস: বহু স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিকের জন্য অনুমোদিত পোস্টগুলোকে নরমাল বা সেকেন্ডারি সেকশনে বদলে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিষয়গুলো এখনও চালু আছে। পার্ট-টাইম বা পাস কোর্সের শিক্ষক দিয়ে তা পড়ানো হচ্ছে। এই পুরনো পোস্টগুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে অবিলম্বে পুনর্নবীকরণ করে নতুন পোস্ট পারমিশন (Post Permission) দিতে হবে।
- নতুন বিষয়ের জন্য যোগ্য শিক্ষক: উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ (WBCHSE) যে নতুন বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছে (যেমন- আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা সায়েন্স), সেগুলোর জন্য উপযুক্ত শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের শিক্ষক দিয়ে এই আধুনিক বিষয়গুলো পড়ানো অনৈতিক।
- পাস ক্যাটাগরির শিক্ষক দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পড়ানো বন্ধ হোক: উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের বিষয়গুলো পাস ক্যাটাগরির শিক্ষকদের দিয়ে পড়ানোর বর্তমান নীতি অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানানো হয়েছে।
- অমানবিক পারিশ্রমিকে পাঠদান বন্ধ হোক: ভূগোল, অ্যাকাউন্টেন্সি, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, কস্টিং অ্যান্ড ট্যাক্সেশন, সংস্কৃত ও মিউজিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বর্তমানে অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতী মাত্র ৩-৪ হাজার টাকা মাসিক পারিশ্রমিকে পড়াচ্ছেন। এই অমানবিক প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
- পিটিআর (PTR) নীতির পরিবর্তন: শুধুমাত্র 'পিউপিল টিচার রেশিও' বা PTR-এর ভিত্তিতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নির্ধারণ করলে চলবে না। কোন স্কুলে কী কী বিষয় পড়ানো হয়, তার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
- এনইপি ২০২০ (NEP 2020) বাস্তবায়ন: উপযুক্ত ও যোগ্যতা সম্পন্ন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-তে উল্লিখিত শিক্ষার মানোন্নয়ন ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।
- শূন্যপদ প্রকাশ ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু: শিক্ষক সংগঠনের দাবি, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের কাছ থেকে রাজ্যের সমস্ত স্কুলের মোট সাবজেক্ট এবং বর্তমান স্থায়ী শিক্ষকদের তথ্য নিলেই প্রয়োজনীয় পার্মানেন্ট টিচিং পোস্টের সংখ্যা বেরিয়ে আসবে। সেই অনুযায়ী, দ্রুত শূন্যপদ (Vacant Post) প্রকাশ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
শিক্ষক সংগঠন APGTWA-এর মতে, বছরের পর বছর ধরে স্কুলগুলো থেকে মুচলেকা লিখিয়ে সাবজেক্ট রিনিউ করানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত অনৈতিক এবং শিক্ষার মানের সঙ্গে ভয়ঙ্কর আপোষ। অবিলম্বে এই দাবিগুলো পূরণ না হলে রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. APGTWA শিক্ষামন্ত্রীর কাছে কী দাবি জানিয়েছে?
রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে অবিলম্বে ২০ হাজারেরও বেশি শূন্যপদে স্থায়ী বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠন APGTWA।
২. উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কত বছর ধরে স্থায়ী পোস্ট অনুমোদন হয়নি?
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ ২২ বছর ধরে রাজ্যের স্কুলগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে নতুন করে কোনো স্থায়ী পোস্ট (Post Permission) অনুমোদন করা হয়নি।
৩. নতুন বিষয়গুলি কারা পড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ?
সংগঠনের অভিযোগ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা ডেটা সায়েন্সের মতো আধুনিক বিষয়গুলি পড়ানোর জন্য উপযুক্ত শিক্ষক নেই, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের শিক্ষকদের দিয়েই অনৈতিকভাবে এসব পড়ানো হচ্ছে।