কলকাতা: বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের পর এবার নিজস্ব দল গঠনের পথে হাঁটতে চলেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু (Chandra Kumar Bose)। নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখেই তিনি ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’ (Azad Hind Party) নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা করতে চলেছেন বলে জানা গিয়েছে।
কেন নতুন দল?
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়েছেন চন্দ্র বসু। এর আগে ২০২৩ সালে তিনি বিজেপি ছেড়েছিলেন। দুই দলেই তাঁর অভিযোগ ছিল প্রায় একই— নেতাজির অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয়তাবাদের আদর্শকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে বা কাজে লাগাতে দলগুলি ব্যর্থ হয়েছে।
চন্দ্র বসুর মতে, শুধুমাত্র নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে বিতর্ক চালানো বা তাঁর গোপন নথি প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। বর্তমান সমাজ ও রাজনীতিতে নেতাজির ধর্মনিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভারতের স্বপ্নকে বাস্তবে প্রয়োগ করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রতিষ্ঠিত কোনও রাজনৈতিক দলের ছাতার নীচে থেকে এই কাজ সম্ভব নয় বলেই তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
কাদের নিয়ে তৈরি হবে দল?
চন্দ্র বসুর এই নতুন উদ্যোগের প্রধান টার্গেট হল 'জেন-জি' (Gen-Z) বা তরুণ প্রজন্ম। তাঁর মতে, আজকের তরুণ সমাজ প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামোর প্রতি অন্ধ আনুগত্যে বিশ্বাসী নয়; তারা দেশ গড়ার কাজে নতুন দিশা চায়। পাশাপাশি, নেতাজির আদর্শে বিশ্বাসী এবং তাঁকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার কাজে যুক্ত থাকা একটি বড় গোষ্ঠীও এই দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
কবে আত্মপ্রকাশ?
চন্দ্র বসুর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নতুন দলটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হতে পারে আগামী ২১ অক্টোবর। ওই দিনই ১৯৪৩ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সিঙ্গাপুরে প্রথম 'আজাদ হিন্দ সরকার' গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। নেতাজির জন্মস্থান ওড়িশার কটক থেকেই এই দলের প্রথম কর্মসূচি শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. চন্দ্র বসুর নতুন দলের নাম কী?
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করতে চলেছেন।
২. কবে এই নতুন দলটির আত্মপ্রকাশ হতে পারে?
আগামী ২১ অক্টোবর এই নতুন দলটির আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। ১৯৪৩ সালের এই দিনটিতেই নেতাজি সিঙ্গাপুরে প্রথম 'আজাদ হিন্দ সরকার' গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন।
৩. তিনি কেন নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিলেন?
বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলে থেকে নেতাজির ধর্মনিরপেক্ষ ও শক্তিশালী ভারতের স্বপ্ন বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয় বলেই তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।