মা আসছে ...

Census 2027: 'কোর্টকে বোকা ভাবছেন!' শিক্ষকদের জনগণনা ডিউটি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের

Calcutta High Court on teachers census duty state withdraws order
Graphics: SE

কলকাতা: শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জনগণনার কাজে (Teachers Census Duty) নিয়োগ করা নিয়ে বিতর্ক ও ধোঁয়াশা কিছুতেই কাটছে না। একদিকে রাজ্য সরকার তাদের পুরনো নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, অন্যদিকে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) দুই সরকারের (কেন্দ্র ও রাজ্য) মধ্যে সমন্বয়ের অভাব দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আপাতত এই বিষয়ে রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতি ।

প্রেক্ষাপট ও নির্দেশিকা প্রত্যাহার

এর আগে, ৩ আগস্ট রাজ্য শিক্ষা দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, স্কুলের পঠনপাঠন বিঘ্নিত না করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ছুটির পরে বা উইকেন্ডে জনগণনার (Census 2027 West Bengal) কাজ করতে হবে। কিন্তু শিক্ষক সংগঠনগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলাকারীদের আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত ও ফিরদৌস শামিম জানান, স্কুলের সময়ের বাইরে এই কাজ করা প্রায় দুঃসাধ্য এবং স্কুলের সময়ে কাজ করলে তা 'অন-ডিউটি' (On-Duty) হিসেবে গণ্য করার অধিকার শিক্ষকদের রয়েছে।

শিক্ষকদের এই আপত্তির পরই বুধবার রাজ্য সরকার আদালতে জানায় যে, স্কুলের সময়ের বাইরে শিক্ষকদের আর জনগণনার কাজ করতে হবে না এবং ৩ আগস্টের ওই বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা নতুন একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানান যে, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের কোনো ক্ষতি না করে শিক্ষকদের সেন্সাসের কাজে ব্যবহার করা যায়।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতেও ধোঁয়াশা, ক্ষুব্ধ বিচারপতি

তবে নতুন বিজ্ঞপ্তিতেও মূল সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি শিক্ষক সংগঠনের। শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী বলেন, "আমরা দাবি করেছিলাম জনগণনার কাজের দিনগুলোকে 'অন-ডিউটি' হিসেবে গণ্য করা হোক। কিন্তু নতুন নির্দেশিকাতেও এই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।"

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ভূমিকায় তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ।

বিচারপতি কৃষ্ণা রাও সরকারি আইনজীবীদের তীব্র ভর্ৎসনা করে বলেন, "গত এক সপ্তাহ ধরে কোর্ট দুই সরকারকেই সময় দিয়েছে, কিন্তু কেউ কোনো কাজ করেননি। শিক্ষকরা সেন্সাস-ডিউটি করবেন নাকি স্কুলে পড়াবেন, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করতে আপনারা ব্যর্থ। আপনারা কোর্টকে বোকা ভাবছেন!"

হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় শিক্ষকরা

রাজ্যের তরফে পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলা হয়, পঠনপাঠন এবং জনগণনার কাজের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে সেটাই আসল বিষয়। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন সেন্সাস কর্তৃপক্ষ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে না পারায় বিচারপতি জানিয়েছেন, হাইকোর্ট নিজেই এই ব্যাপারে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবে।

প্রসঙ্গত, আগের এসআইআর (SIR) পর্বে বিএলও-র (BLO) কাজ করতে গিয়ে শিক্ষকদের দুই দিক সামলাতে নাকানিচোবানি খেতে হয়েছিল। তাই এবার 'অন-ডিউটি' ছাড়া তাঁরা কোনোভাবেই এই কাজে অংশ নিতে চাইছেন না। এখন দেখার বিষয়, হাইকোর্ট শেষ পর্যন্ত রাজ্যের শিক্ষকদের (WB Government Employees) পক্ষে রায় দেয়, নাকি সেন্সাস কর্তৃপক্ষকে নতুন কোনো নির্দেশ দেয়।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. হাইকোর্ট কেন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করল?

শিক্ষকরা স্কুলে পড়াবেন নাকি জনগণনার কাজ করবেন, সেই বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে দুই সরকারই ব্যর্থ হওয়ায় হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, "আপনারা কোর্টকে বোকা ভাবছেন।"

২. রাজ্য সরকার কোন নির্দেশিকা প্রত্যাহার করেছে?

গত ৩ আগস্ট শিক্ষা দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকা, যেখানে শিক্ষকদের ছুটির পরে বা উইকেন্ডে জনগণনার কাজ করার কথা বলা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাজ্য সরকার।

৩. শিক্ষক সংগঠনগুলির মূল দাবি কী?

শিক্ষকদের মূল দাবি হলো, স্কুলের সময়ের বাইরে কাজ করা সম্ভব নয়। তাই স্কুলের সময়ে জনগণনার কাজ করলে সেই দিনগুলোকে 'অন-ডিউটি' (On-Duty) হিসেবে গণ্য করতে হবে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in