কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জনগণনার (Census 2027 West Bengal) কাজ সংক্রান্ত মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court Judgment)। সেন্সাসের কাজে যুক্ত সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বাধ্যতামূলকভাবে 'অন-ডিউটি' (On-Duty for Teachers) সুবিধা দিতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এর পাশাপাশি স্কুলের পঠনপাঠন যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি এবং রোস্টার মেনে শিক্ষক মোতায়েনের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিটিশনারদের আইনজীবীর দেওয়া সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষক সংগঠনের করা মামলার প্রেক্ষিতে আদালত শিক্ষকদের দাবি মেনেই এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেছে।
হাইকোর্টের রায়ের মূল নির্দেশিকা ও পর্যবেক্ষণ
জনগণনার কাজে (Teachers Census Duty Order) শিক্ষকদের হয়রানি রুখতে হাইকোর্টের রায়ে কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে:
১. বাধ্যতামূলক 'অন-ডিউটি' প্রদান
আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষিকারা যখনই জনগণনার দায়িত্ব পালন করবেন, বিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাঁদের সেই সময়কালের জন্য পূর্ণাঙ্গ 'অন-ডিউটি' (On-Duty) দিতে হবে। কোনোভাবেই স্কুল সময়ের বাইরে অতিরিক্ত বেগার খাটা বা ছুটির দিনে অন-ডিউটি ছাড়া কাজ করানো যাবে না।
২. সমস্ত শিক্ষকের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য
আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন যে এই নির্দেশ কোনো নির্দিষ্ট একাংশের জন্য নয়, বরং সেন্সাস ডিউটিতে নিযুক্ত রাজ্যের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার (WB Teachers News Today) জন্যই সমভাবে কার্যকর হবে।
৩. নির্দিষ্ট সময়সূচি (Time Schedule) নির্ধারণ
পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর অফ সেন্সাস-কে (Director of Census, West Bengal) অবিলম্বে জনগণনার কাজের জন্য নির্দিষ্ট দৈনিক সময়সীমা বা 'অফিস টাইম' নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। অসময়ে বা অনির্দিষ্টভাবে শিক্ষকদের এই কাজে যথেচ্ছ ব্যবহার করা যাবে না।
৪. স্কুলের সমস্যা রুখতে রোস্টার ম্যানেজমেন্ট (Roster)
জনগণনার ডিউটির কারণে যদি কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট বা পঠনপাঠনে সমস্যা তৈরি হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তর রোস্টার (Roster) খতিয়ে দেখে তবেই শিক্ষক মোতায়েন বা ডেপ্লয়মেন্টের সিদ্ধান্ত নেবে।
অনিশ্চয়তা কাটল, শিক্ষক মহলে স্বস্তির হাওয়া
শিক্ষা দপ্তরের (School Education Department) তরফে সম্প্রতি নির্দেশিকা জারি করে স্কুল সময়ের বাইরে কিংবা ছুটির দিনে সেন্সাসের কাজ করার যে প্রবল চাপ তৈরি করা হয়েছিল, হাইকোর্টের এই চূড়ান্ত নির্দেশের ফলে সেই অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা পুরোপুরি কেটে গেল। শিক্ষকদের মূল দাবি মেনে আদালত স্পষ্ট করে দিল—জাতীয় কর্তব্যের খাতিরে সেন্সাসের কাজ করতে হলে তা সরকারি নিয়ম মেনে পূর্ণ 'অন-ডিউটি' হিসেবেই করতে হবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. সেন্সাস ডিউটি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট কী রায় দিয়েছে?
কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, সেন্সাস বা জনগণনার কাজে নিযুক্ত সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বাধ্যতামূলকভাবে পূর্ণাঙ্গ 'অন-ডিউটি' (On-Duty) সুবিধা দিতে হবে। ছুটির দিনে বেগার খাটানো যাবে না।
২. স্কুলের পড়াশোনা যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
আদালত জানিয়েছে, শিক্ষক সংকটের কারণে যাতে পঠনপাঠন বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবশ্যই রোস্টার (Roster) মেনে শিক্ষক ডেপ্লয়মেন্ট করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি বা 'অফিস টাইম' নির্ধারণ করতে হবে।
৩. এই নির্দেশিকা কি সমস্ত শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য?
হ্যাঁ, আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের এই নির্দেশ কোনো নির্দিষ্ট একাংশের জন্য নয়, বরং সেন্সাস ডিউটিতে নিযুক্ত রাজ্যের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্যই সমভাবে কার্যকর হবে।