বৈকুণ্ঠপুরে গড়ে উঠছে ‘নগর বন’! ইকো-ট্যুরিজমে নতুন দিগন্ত, বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা

শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের অন্যতম সবুজ অঞ্চল বৈকুণ্ঠপুরে গড়ে উঠতে চলেছে বড়সড় ‘নগর বন’ (Nagar Van) প্রকল্প। সম্প্রতি বৈকুণ্ঠপুর নগর বন এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজ ওরাও। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ, জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় এবং বন দফতরের আধিকারিকরা। প্রকৃতি সংরক্ষণ, পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইকো-ট্যুরিজমকে (Eco-Tourism) আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

কীভাবে তৈরি হবে এই 'নগর বন'?

মন্ত্রীদের পরিদর্শনে জানানো হয়, বৈকুণ্ঠপুরের প্রায় ১৫০ হেক্টর বনভূমিকে ঘিরে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫০ হেক্টর এলাকায় সরাসরি উন্নয়নের কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে বাকি এলাকায় বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে।

তবে প্রকৃতির স্বাভাবিক পরিবেশ যাতে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। শুরুতে পুরো এলাকা ফেন্সিং (বেড়াজাল) করা হবে এবং এরপর পরিবেশ ও বন বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ধাপে ধাপে এগোবে।

ইকো-ট্যুরিজমের নতুন গন্তব্য হতে চলেছে বৈকুণ্ঠপুর

পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, বন দফতরের আধিকারিকদের অনুরোধেই তিনি বিষয়টি বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওয়ের নজরে আনেন। সেই অনুযায়ী বনমন্ত্রী নিজে বৈকুণ্ঠপুরে এসে পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। শংকর ঘোষ বলেন, ১৫০ হেক্টরের এই বিস্তীর্ণ এলাকায় একই সঙ্গে বন, নদী ও গ্রাসল্যান্ডের (Grassland) বিরল সমন্বয় রয়েছে, যা দেশের অন্যত্র খুব কমই দেখা যায়। এই বৈচিত্র্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেই নগর বন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে এবং ভবিষ্যতে এটিকে ভারতবর্ষের অন্যতম আকর্ষণীয় ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, পর্যটনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে এমনভাবে উন্নয়ন করা হবে যাতে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকে। ভবিষ্যতে বৈকুণ্ঠপুর নগর বন শুধু বাংলার নয়, গোটা দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

অন্যদিকে জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্ত রায় বলেন, বৈকুণ্ঠপুর শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের মতো বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগ রয়েছে। পাশাপাশি জঙ্গল, নদী এবং বিভিন্ন ভাষাভাষী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সহাবস্থান এই এলাকাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর মতে, বন ও পর্যটন দফতরের যৌথ উদ্যোগে নগর বন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বৈকুণ্ঠপুর বিশ্বমানের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ স্থান করে নেবে এবং এটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. 'নগর বন' (Nagar Van) প্রকল্পটি কোথায় গড়ে উঠছে?

উত্তরবঙ্গের অন্যতম সবুজ অঞ্চল শিলিগুড়ির পার্শ্ববর্তী বৈকুণ্ঠপুরের বনভূমিতে এই 'নগর বন' প্রকল্পটি গড়ে উঠছে।

২. এই নগর বন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কী?

এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতি সংরক্ষণ, মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং বৈকুণ্ঠপুরকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

৩. বৈকুণ্ঠপুর অঞ্চলের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই অঞ্চল স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের মতো বিপ্লবীদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এটি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in