কলকাতা: আগামী ১৭ই আগস্ট থেকে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে তৃতীয় পর্যায়ের 'অন্নপূর্ণা যোজনা'-র (Annapurna Yojana) টাকা অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া। তার আগে আজ এই যোজনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, কারা এই প্রকল্পের টাকা পাওয়ার যোগ্য এবং কারা নন।
অন্নপূর্ণা যোজনার যোগ্যতা ও নতুন নিয়মাবলি
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে হলে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:
- বয়সসীমা: এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে মহিলাদের জন্য এবং এর আওতাভুক্ত হওয়ার নির্দিষ্ট বয়সসীমা হলো ২৫ থেকে ৬০ বছর। এর চেয়ে কম বা বেশি বয়সের কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
- আয়কর এবং আয়: যে পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি এবং যারা আয়কর প্রদান করেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুযোগ পাবেন না। এছাড়া, যে মহিলা নিজে মাসে ১০,০০০ টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাঁকেও প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
- সরকারি চাকরি ও ভাতা: কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, পঞ্চায়েত বা পৌরসভায় নিযুক্ত স্থায়ী চাকুরীজীবীরা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত নন।
- ভাতা সংক্রান্ত পরিবর্তন: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যে মহিলারা আগে অন্যান্য ভাতা (যেমন- বিধবা ভাতা) হিসেবে ৩,০০০ টাকার কম পেতেন, তাঁদের এখন থেকে অন্নপূর্ণা যোজনাতেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং ৩,০০০ টাকা প্রদান করা হবে।
- দিব্যাঙ্গ ও পিএম কিষান: এক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। দিব্যাঙ্গ মহিলারা এবং 'পিএম কিষান সম্মান নিধি'-র সুবিধাভোগীরা তাঁদের ওই ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকাও পাবেন।
গ্রামীণ মহিলাদের জন্য বড় ছাড়
গত পর্যায়ে অনেক মহিলা তিন কক্ষবিশিষ্ট বাড়ি বা জমির পরিমাণের নিয়মের কারণে এই যোজনা থেকে বাদ পড়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রামীণ এলাকার জন্য এই নিয়মটি শিথিল করা হয়েছে। এখন গ্রামের মহিলাদের ক্ষেত্রে বাড়ির কক্ষের সংখ্যা বা জমির পরিমাণের নির্দিষ্ট কোনও মাপকাঠি থাকছে না।
তবে, কলকাতা বা হাওড়ার মতো সাতটি কর্পোরেশন এলাকায় শুধুমাত্র ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমির মালিকানাধীনরাই এই নিয়মের আওতাভুক্ত থাকবেন। এর ফলে গ্রামীণ এলাকার আরও বেশি সংখ্যক মহিলা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
স্বচ্ছতা ও অভিযোগ পোর্টাল
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে এই ধরণের প্রকল্পগুলোতে মৃত ব্যক্তি বা পুরুষদের নামেও টাকা যাওয়ার মতো দুর্নীতি ধরা পড়েছে। সেই দুর্নীতি রুখতেই এবার আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বাড়ি বাড়ি ভেরিফিকেশন করা হয়েছে। আগামী দিনে কেউ যদি মনে করেন তিনি যোগ্য অথচ টাকা পাননি, অথবা কেউ অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও টাকা পাচ্ছেন, তবে তাঁরা সরকারি 'অভিযোগ পোর্টালে' অভিযোগ জানাতে পারবেন। বিডিও-দের নেতৃত্বে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করা হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
১৭ই আগস্ট থেকে শুরু হয়ে আগামী কয়েকদিন ধরে এই টাকা ট্রান্সফার প্রক্রিয়া চলবে। প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই টাকা যোগ্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার বয়সসীমা কত?
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে মহিলাদের বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
২. পিএম কিষান বা দিব্যাঙ্গ ভাতা প্রাপকরা কি এই টাকা পাবেন?
হ্যাঁ, বিশেষ ছাড় অনুযায়ী পিএম কিষান সম্মান নিধি এবং দিব্যাঙ্গ ভাতা প্রাপক মহিলারাও তাঁদের ভাতার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩,০০০ টাকা পাবেন।
৩. অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কবে থেকে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে?
আগামী ১৭ই আগস্ট থেকে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে তৃতীয় পর্যায়ের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার শুরু হবে।