কোচবিহার: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে (Netaji Subhas Chandra Bose) নিয়ে করা 'কুরুচিকর' মন্তব্যের জেরে রাজ্যজুড়ে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়ে অবশেষে পিছু হঠলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj)। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া (Facebook) প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট করে নিজের 'অনিচ্ছাকৃত' মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যেই ক্ষমা চেয়েছেন কোচবিহারের (Cooch Behar News) এই হেভিওয়েট নেতা।
রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ও এফআইআর দায়ের
সম্প্রতি অনন্ত মহারাজের একটি মন্তব্যকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতি (West Bengal Politics)। নেতাজিকে নিয়ে তাঁর করা একটি মন্তব্যের জেরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরাও। শুধু তাই নয়, রাজ্যের একাধিক থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR)-ও দায়ের করা হয়।
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (CM Mamata Banerjee) এই বিষয়ে মুখ খুলতে হয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, নেতাজিকে নিয়ে যারা এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ বা অ্যাকশন নেওয়া হবে।
মাঝরাতে ফেসবুকে ক্ষমা চাইলেন অনন্ত মহারাজ
মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি এবং চারদিক থেকে ধেয়ে আসা প্রবল জনরোষের পরই সুর নরম করেন বিজেপি সাংসদ (BJP MP) অনন্ত মহারাজ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, "নেতাজির প্রতি সম্মান জানিয়ে বলছি, নেতাজি সম্পর্কে আমার অনিচ্ছাকৃত কিছু মন্তব্যের জন্য কেউ যদি মানসিকভাবে আঘাত পেয়ে থাকেন, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।"
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জনরোষ এবং পুলিশের আইনি পদক্ষেপের খাঁড়া নেমে আসার আশঙ্কাতেই শেষ পর্যন্ত জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হলেন এই বিজেপি নেতা। যদিও তাঁর এই দুঃখপ্রকাশের পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামবে কি না, তা আগামী সময়ই বলবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. অনন্ত মহারাজ কেন ক্ষমা চাইলেন?
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার জেরে রাজ্যজুড়ে প্রবল বিক্ষোভ ও এফআইআর দায়ের হওয়ার পর তিনি ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।
২. তিনি কোথায় ক্ষমা চেয়েছেন?
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অনন্ত মহারাজ তাঁর নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট করে এই মন্তব্যের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
৩. মুখ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কী নির্দেশ দিয়েছিলেন?
মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, নেতাজিকে নিয়ে যারা এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।