নয়াদিল্লি: মাঝ-আকাশে চরম আতঙ্কের শিকার হলেন এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) একটি ফ্লাইটের যাত্রীরা। মঙ্গলবার সকালে থাইল্যান্ডের ফুকেট (Phuket) থেকে দিল্লির (Delhi) উদ্দেশে রওনা দেওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ (AI2379) ফ্লাইটটি ভয়াবহ টার্বুলেন্সের (Turbulence) মুখে পড়ে। আচমকাই বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়, যার জেরে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে খবর। আহতদের মধ্যে ১৩ জন যাত্রী এবং ৪ জন কেবিন ক্রু রয়েছেন।
কী ঘটেছিল মাঝ আকাশে?
এয়ারবাস এ৩২০নিও (Airbus A320neo) মডেলের এই বিমানটিতে ১৩৭ জন যাত্রী (যার মধ্যে ৩ জন শিশু) এবং ৮ জন ক্রু ছিলেন। ফুকেট থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই, মাঝ-আকাশে (সম্ভবত ওড়িশার ওপর দিয়ে ওড়ার সময়) বিমানটি তীব্র এয়ার টার্বুলেন্সের কবলে পড়ে।
যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ করেই বিমানটি লাফিয়ে ওঠে এবং তারপর যেন মুক্ত পতনের (Free fall) মতো প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এই আকস্মিক ঝাঁকুনিতে বিমানের ভেতরের লাগেজ কেবিনগুলো খুলে যায় এবং যাত্রীদের ওপর ব্যাগপত্র আছড়ে পড়ে। অনেকেই সিট থেকে ছিটকে গিয়ে বিমানের ছাদে ধাক্কা খান।
এক ইতালীয় নারী যাত্রী আতঙ্কিত কণ্ঠে জানান, "আমার মনে হচ্ছিল আমরা আর বাঁচব না। আমি দেখলাম আমার বোন সিট থেকে শূন্যে ছিটকে গেল। আমার মায়ের মাথায় আঘাত লেগেছে। চারদিকে শুধু মানুষের আর্তনাদ আর কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল।" অন্য এক যাত্রী জানান, সিটবেল্ট বাঁধার নির্দেশ দেওয়ার আগেই এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটে যায়।
আহতদের বর্তমান অবস্থা
সকাল ১১টা ৭ মিনিটে বিমানটি দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। আগে থেকেই সেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দরে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আহত যাত্রীদের গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতাল (Medanta Hospital) এবং বসন্ত কুঞ্জের ফোর্টিস হাসপাতালে (Fortis Hospital) স্থানান্তরিত করা হয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, "যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আহতদের মধ্যে কাউকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি। বেশিরভাগই প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়া পেয়েছেন।"
তদন্তের নির্দেশ ও ডিজিসিএ-র পদক্ষেপ
ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA) এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো সাময়িক প্রযুক্তিগত ত্রুটির (Transient technical fault) কারণেই এই টার্বুলেন্সের ঘটনা ঘটতে পারে। সিভিল এভিয়েশন মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা হাসপাতালে গিয়ে আহত যাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন ভারতীয় আকাশসীমায় শক্তিশালী কিউমুলোনিম্বাস (Cumulonimbus) মেঘের কারণে এ ধরনের 'কনভেক্টিভ টার্বুলেন্স' (Convective turbulence) তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে এই ঘটনা বিমানযাত্রীদের মনে গভীর আতঙ্কের ছাপ রেখে গেল।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. এয়ার ইন্ডিয়ার কোন ফ্লাইটে টার্বুলেন্সের ঘটনা ঘটেছে?
থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ (AI2379) ফ্লাইটে এই ভয়াবহ টার্বুলেন্সের ঘটনা ঘটেছে।
২. এই টার্বুলেন্সে কতজন আহত হয়েছেন?
এই ঘটনায় ১৩ জন যাত্রী এবং ৪ জন কেবিন ক্রু-সহ মোট ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
৩. মাঝ-আকাশে বিমানটি কতটা নিচে নেমে যায়?
যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আচমকাই ঝাঁকুনি দিয়ে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে (মুক্ত পতনের মতো) নেমে যায়।