নয়াদিল্লি: গত ৪ আগস্ট এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটে (Phuket-Delhi flight) ঘটা একটি ঘটনা নিয়ে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। শুরুতে এয়ার ইন্ডিয়া এই ঘটনাকে সাধারণ 'টার্বুলেন্স' (Turbulence) বলে দাবি করলেও, ককপিটের রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত একটি নতুন রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে আসল ঘটনাটি ছিল আরও অনেক বেশি ভয়াবহ। ওই রিপোর্টে ৯টি সতর্কতা বার্তা (Warnings) এবং ট্রিপল-হাইড্রোলিক ফেইলিওরের (Triple-Hydraulic Failure) কথা উল্লেখ রয়েছে, যার জেরে মাঝ আকাশে বিমানটি হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়।
টার্বুলেন্সের দাবি নাকি ভয়াবহ যান্ত্রিক ত্রুটি?
ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া প্রথমে একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল যে মাঝ আকাশে হঠাৎ 'টার্বুলেন্স' বা প্রবল ঝাঁকুনির কারণেই বিমানটি নিচে নেমে গিয়েছিল এবং যাত্রীদের সামান্য চোট লেগেছে। পরে অবশ্য তারা 'টার্বুলেন্স' শব্দটি তাদের বিবৃতি থেকে সরিয়ে নেয়। তবে, বিমানটি দিল্লিতে অবতরণের পর ককপিট মেন্টেন্যান্স প্রিন্টআউটে (Cockpit Maintenance Printout) যে তথ্য উঠে এসেছে তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। জানা গিয়েছে:
- ট্রিপল হাইড্রোলিক ফেইলিওর: এয়ারবাস A320neo বিমানে ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণ, ল্যান্ডিং গিয়ার এবং ব্রেক পরিচালনা করার জন্য তিনটি স্বাধীন হাইড্রোলিক সিস্টেম থাকে। সকাল ৯:৩২ মিনিটে তিনটি হাইড্রোলিক সিস্টেমেই লো প্রেশার বা নিম্ন চাপের সতর্কবার্তা বেজে ওঠে।
- ফ্লাইট কন্ট্রোল ব্যাহত: ঠিক সেই সময়েই অটো-পাইলট (Autopilot) সিস্টেম সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানের উচ্চতা ও ওঠানামা নিয়ন্ত্রণকারী লেফট ও রাইট এলিভেটরে ত্রুটি দেখা দেয়।
- দরজা এবং ইঞ্জিনের সতর্কতা: এর কয়েক মিনিট পরেই বিমানের সামনের ডানদিকের এবং পিছনের ডানদিকের ইমারজেন্সি এক্সিট ডোরের (Emergency Exit Door) সতর্কবার্তা বেজে ওঠে। সকাল ১০:১৬-এ বিমানের ১ নম্বর ইঞ্জিনের অ্যান্টি-আইস সিস্টেমে ভালভ প্রেশারের ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর সকাল ১০:৫২-তে দ্বিতীয়বার অটো-পাইলট সিস্টেম বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
গুরুতর আহত যাত্রী ও ক্রু মেম্বাররা
এয়ার ইন্ডিয়ার 'সামান্য চোট'-এর দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী (Civil Aviation Minister) রাম মোহন নাইডু নিশ্চিত করেছেন যে, বিমানটি হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার কারণে অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু মেম্বার আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ক্রু মেম্বারের মেরুদণ্ড এবং ঘাড়ে গুরুতর চোট লেগেছে।
পাইলটের ড্রাগ টেস্ট পজিটিভ
শুধু যান্ত্রিক ত্রুটিই নয়, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছে পাইলটের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগও। দিল্লিতে বিমান অবতরণের পর পাইলটের মেডিকেল স্ক্রিনিং করা হয়। তাতে দেখা যায়, পাইলট সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থ (Psychoactive Substances) বা নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করেছিলেন।
পরে দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও নিশ্চিত হওয়া যায় যে পাইলটের শরীরে গাঁজা (Marijuana) বা ক্যানাবিসের উপস্থিত ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটি এবং পাইলটের এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে হাজারো প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ (DGCA) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ এই পুরো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. এয়ার ইন্ডিয়ার ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটে ঠিক কী ঘটেছিল?
মাঝ আকাশে বিমানটিতে ট্রিপল হাইড্রোলিক ফেইলিওর সহ একাধিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে বিমানটি হঠাৎ ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায় এবং বহু যাত্রী ও ক্রু আহত হন।
২. এই ঘটনায় কতজন আহত হয়েছেন?
অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর বয়ান অনুযায়ী, বিমানটি হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ায় অন্তত ২০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু মেম্বার আহত হয়েছেন।
৩. পাইলটের মেডিকেল টেস্টে কী রিপোর্ট এসেছে?
দিল্লিতে অবতরণের পর পাইলটের মেডিকেল স্ক্রিনিংয়ে ড্রাগ টেস্ট পজিটিভ আসে এবং তাঁর শরীরে গাঁজা বা ক্যানাবিসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।