আন্তর্জাতিক ডেস্ক: শনিবার ভোরে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে (Earthquake Today) কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭.৪। এই তীব্র কম্পনের পরপরই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা (Tsunami Warning) জারি করেছে ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC)। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৫ মিনিটের ব্যবধানে একাধিক শক্তিশালী আফটারশক
জানা গিয়েছে, ভারতীয় সময় ভোর ৩:২৮ মিনিটে প্রথম বড় কম্পনটি অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার গভীরে। তবে প্রথম কম্পনের পরই আতঙ্ক কাটেনি; দফায় দফায় কেঁপে ওঠে সংলগ্ন অঞ্চল।
প্রথম ভূমিকম্পের মাত্র ১৫ মিনিট পর, অর্থাৎ ভোর ৩:৪৩ মিনিটে ফ্লোরেস সাগরে (ফ্লোরেস এবং সুলাওয়েসি দ্বীপের মাঝে) ৬.৩ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যার গভীরতা ছিল ৬৩ কিলোমিটার। এরপর ভোর ৩:৫৮ মিনিটে ওই একই এলাকায় ৬.০ মাত্রার তৃতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪২ কিলোমিটার গভীরে।
'রিং অফ ফায়ার' ও অগভীর কম্পনের ঝুঁকি
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া 'প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার' (Pacific Ring of Fire) বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ের উপর অবস্থিত। টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রায়শই ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে থাকে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর মতে, অগভীর ভূমিকম্পগুলি সাধারণত সবচেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক হয়। এর কারণ হলো, ভূগর্ভের কম গভীরতায় শক্তি উৎপন্ন হলে তা ভূপৃষ্ঠে পৌঁছাতে খুব কম সময় নেয় এবং ভূ-পৃষ্ঠে তীব্র কাঁপুনি তৈরি করে। ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। শনিবার ভোরে ঘটা কম্পনগুলিও অগভীর প্রকৃতির ছিল বলে ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন।
উপকূলজুড়ে সতর্কতা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষকে উঁচু ও নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলগুলিকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। তবে এই শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা স্পষ্ট নয়। প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণ করা হচ্ছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. ইন্দোনেশিয়ায় ঘটা ভূমিকম্পের তীব্রতা কত ছিল?
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) অনুসারে, রিখটার স্কেলে মূল ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৭.৪। এর কিছুক্ষণ পর ৬.৩ এবং ৬.০ মাত্রার দুটি আফটারশক অনুভূত হয়।
২. ভূমিকম্পের পর কি সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে?
হ্যাঁ, ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) কম্পনের পরপরই উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে।
৩. ইন্দোনেশিয়ায় ঘন ঘন ভূমিকম্প হওয়ার কারণ কী?
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অফ ফায়ার' (Ring of Fire)-এর ওপর অবস্থিত হওয়ায় সেখানে টেকটনিক প্লেটের সক্রিয় চলন ঘটে, যার ফলে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত হয়।