WB Education: প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সিলেবাসে আমূল বদল আনছে রাজ্য! কার্যকর হবে ২০২৮ সাল থেকে

কলকাতা: রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy বা NEP 2020) মেনে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত স্কুলে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যসূচিতে আমূল বদল আনা হবে। বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে বিকাশ ভবনে আয়োজিত একটি সাংবাদিক বৈঠকে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন।

এই নতুন সিলেবাস ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর হবে। তার আগে বর্তমান সিলেবাসে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কিছু পরিমার্জন করা হবে।

কেন এই পরিবর্তন? কী থাকছে নতুন সিলেবাসে?

কেন্দ্রীয় সরকার ২০২০ সালে নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) পাশ করলেও, রাজনৈতিক কারণে পশ্চিমবঙ্গে তা এতদিন লাগু হয়নি। বর্তমান স্কুল শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার এবার সেই নীতি বাস্তবায়ন করতে চলেছে।

নতুন সিলেবাসের মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাকে 'চাকরি-মুখী' এবং 'স্বনির্ভর' করে তোলা। অর্থাৎ, পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে কর্মসংস্থানের জন্য যেসব দক্ষতার প্রয়োজন, নতুন পাঠ্যক্রমে তার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে।

"এতদিন এ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি লাগু করা হয়নি। আমরা তা লাগু করব। কিন্তু তার জন্য কিছুটা সময় লাগবে। ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যসূচি থেকে বই – সব আমূল বদলে যাবে। তারই প্রস্তুতি চলছে।”
- দীপক বর্মন (স্কুল শিক্ষামন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ)

নতুন শিক্ষা কাঠামোর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিক:

  • সেমিস্টার পদ্ধতি: পড়ুয়াদের ওপর থেকে পরীক্ষার চাপ কমাতে এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি ক্লাসেই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
  • সিলেবাস কমিটির ভূমিকা: পাঠ্যবই থেকে কোন কোন অধ্যায় বাদ যাবে এবং কোন নতুন বিষয়গুলো যুক্ত হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সিলেবাস কমিটির সুপারিশের ওপর। বাংলার নিজস্ব পরিকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই নতুন সিলেবাসের রূপরেখা তৈরি হবে।

ইতিহাসের পাতায় কোপ? শুরু বিতর্ক

পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের এই ঘোষণা সামনে আসতেই ওয়াকিবহাল মহলে তৈরি হয়েছে জল্পনা এবং বিতর্ক। শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, নতুন সিলেবাসটি 'জাতীয়তাবাদী' বা 'রাষ্ট্রবাদী' ভাবধারার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে। জল্পনা চলছে যে, স্কুলের ইতিহাসের বইগুলি থেকে মুঘল বা ইসলামিক যুগের ইতিহাস আংশিক বা পুরোপুরিভাবে বাদ পড়তে পারে।

যদিও শিক্ষামন্ত্রীর তরফে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিনি জানিয়েছেন, সিলেবাস কমিটি যা চূড়ান্ত করবে, তার ভিত্তিতেই বই ছাপা হবে। এর পাশাপাশি, বৃহস্পতিবারের ওই সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যের স্কুলগুলির নীল-সাদা ইউনিফর্ম বদল করার বিষয়ে আপাতত সরকারের কোনো পরিকল্পনা বা আপত্তি নেই।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. পশ্চিমবঙ্গে কবে থেকে নতুন স্কুল সিলেবাস কার্যকর হবে?

রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নতুন সিলেবাস কার্যকর হবে।

২. নতুন সিলেবাসের প্রধান লক্ষ্য কী?

নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) অনুযায়ী, শিক্ষাকে আরও 'চাকরি-মুখী' এবং 'স্বনির্ভর' করে তোলাই এই নতুন সিলেবাসের মূল লক্ষ্য।

৩. স্কুলগুলোতে কি সেমিস্টার পদ্ধতি চালু হবে?

হ্যাঁ, পড়ুয়াদের মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি ক্লাসেই সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in