নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে বর্ষার দাপট অব্যাহত। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) আজ, ২৯ জুলাই দেশের ১৭টি রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি গভীর নিম্নচাপ স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হওয়ার কারণেই এই প্রবল বর্ষণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন রাজ্যের আজকের আবহাওয়া পরিস্থিতি
আইএমডি (IMD)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এই গভীর নিম্নচাপটি উত্তর ওড়িশা, দক্ষিণ ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর ছত্তিশগড়ের ওপর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবে আগামী ৪-৫ দিন উত্তর-পশ্চিম এবং মধ্য ভারতে বর্ষা অত্যন্ত সক্রিয় থাকবে।
- মধ্য ভারত: বুধবার সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হবে মধ্য ভারতে। ছত্তিশগড়, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ এবং বিদর্ভ অঞ্চলে আজ বিচ্ছিন্নভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এই অঞ্চলগুলিতে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
- উত্তর ভারত ও পাহাড়ি রাজ্য: রাজধানী দিল্লি, হরিয়ানা এবং পাঞ্জাবের বিস্তীর্ণ এলাকায় আজ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে জল জমার ও যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তরপ্রদেশেও ব্যাপক বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় অতিবৃষ্টির কারণে ভূমিধসের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
- পূর্ব ও পশ্চিম ভারত: বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমের রাজ্য মহারাষ্ট্র (কোঙ্কন ও গোয়া) এবং গুজরাটের একাধিক জায়গাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
বৃষ্টির পাশাপাশি বেশ কিছু জায়গায় ৪০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রপাতের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া দফতর। সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে মৎস্যজীবীদের উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া (West Bengal Weather Update)
পশ্চিমবঙ্গেও এই নিম্নচাপের প্রভাব ভালোই অনুভূত হচ্ছে। রাজ্যজুড়ে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা আলাদা পূর্বাভাস জারি করেছে হাওয়া অফিস।
দক্ষিণবঙ্গে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি ও বৃষ্টির পূর্বাভাস
ওড়িশা এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর নিম্নচাপের প্রভাব বজায় থাকায় আজ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দফায় দফায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃষ্টির ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, তিস্তায় জল ছাড়ল গজলডোবা ব্যারেজ
আবহাওয়া দফতরের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, আজ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর মধ্যে দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়ি জেলার দু-এক জায়গায় ভারী বৃষ্টি (৭-১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে। তিস্তার মেখলীগঞ্জের অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জল ছাড়া হচ্ছে গজলডোবা এবং কালিঝোরা ব্যারেজ থেকে।
জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তরের ফ্লাড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল ছটায় কালিঝোরা ব্যারেজ থেকে ১০১৬ কিউসেক এবং গজলডোবা ব্যারেজ থেকে ৯৪৬ কিউসেক জল ছাড়া হয়। সকাল থেকেই হালকা বৃষ্টির ফলে জনজীবন কিছুটা ব্যাহত হলেও ফিরে এসেছে ঠান্ডার পরিবেশ। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে খারাপ আবহাওয়ায় সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং খুব প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নদীগুলোতে কোনো ধরনের বিপদ সংকেত দেওয়া হয়নি।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. আজ দেশের কতগুলি রাজ্যে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে IMD?
বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপের জেরে ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) আজ দেশের ১৭টি রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।
২. পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া আজ কেমন থাকবে?
আজ দক্ষিণবঙ্গে দফায় দফায় বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি সহ পাঁচ জেলায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
৩. তিস্তা নদীতে কত কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে?
জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, সকাল ছটায় কালিঝোরা ব্যারেজ থেকে ১০১৬ কিউসেক এবং গজলডোবা ব্যারেজ থেকে ৯৪৬ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।