টানা ১৩তম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা! বাজেয়াপ্ত ইরানি অর্থেই মেটানো হবে জাহাজের ক্ষতিপূরণ, হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

US strikes Iran 13th night Trump warns to use seized funds
ছবি: টানা ১৩তম রাতে ইরানে মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ওয়াশিংটন: ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩তম রাতের জন্য ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, বাণিজ্যিক জাহাজ এবং কার্গোর যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থাকা বাজেয়াপ্ত ইরানি তহবিল ব্যবহার করে মেটানো হবে।

সামরিক পরিকাঠামো লক্ষ্য করে সেন্টকমের অভিযান

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম (CENTCOM) জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় (মার্কিন সময়) মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলির ওপর আরও একটি অভিযান শুরু করেছে। এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে সেন্টকম জানায়, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর হুমকি কমানোর উদ্দেশ্যেই এই ১৩তম রাতের হামলা চালানো হয়েছে। সামরিক এই অভিযানে মূলত সামুদ্রিক ক্রিয়াকলাপের জন্য ব্যবহৃত ইরানের সামরিক পরিকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সুবিধা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় নজরদারি সাইটগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া বেসামরিক জাহাজগুলিকে হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে কমান্ড জানিয়েছে।

ক্ষতিপূরণ ও পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

এই সাম্প্রতিক হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল (Truth Social) প্ল্যাটফর্মে একটি বার্তা পোস্ট করে জানান যে, জাহাজ এবং কার্গোর ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমেরিকার দখলে থাকা ইরানি অর্থ দিয়েই ক্ষতিপূরণ মেটানো হবে। তিনি এটিকে একটি ন্যায্য পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করলেও, ঠিক কীভাবে এই অর্থ প্রদান করা হবে বা নির্দিষ্ট কোন তহবিলের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তা ব্যাখ্যা করেননি। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশে ইরানের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ বাজেয়াপ্ত অবস্থায় রয়েছে এবং তা তেহরানের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এর পাশাপাশি ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং আমেরিকা ছাড়া অন্য কারও এটি আটকানোর ক্ষমতা নেই।

কড়া প্রতিক্রিয়া ইরানের, ব্যাহত সমুদ্রপথ

ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে ইরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি (Seyed Abbas Araghchi) এক্স (X) হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে ওয়াশিংটনের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, তাঁরা বাস্তব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে কেবল ২০২৮ সালের দিকে মনোনিবেশ করছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের চিন্তাহীন আগ্রাসনের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত চুক্তির জন্য আরও চড়া মূল্য চোকাতে হবে। এদিকে, সেন্টকম ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নৌ অবরোধ শুরু করার পর একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার অংশ হিসেবে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজকে ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা ত্যাগে বাধা দেওয়া হয়েছে।

ইরানে মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি (FAQ)

প্রশ্ন ১: ইরানে টানা ১৩তম রাতের হামলায় মার্কিন সেন্টকমের প্রধান লক্ষ্য কী ছিল?

উত্তর: সেন্টকম জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আইআরজিসি-র (IRGC) হুমকি কমাতে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সুবিধাগুলি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

প্রশ্ন ২: জাহাজের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন?

উত্তর: ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ ও কার্গোর যেকোনো ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থাকা বাজেয়াপ্ত ইরানি অর্থ ব্যবহার করে মেটানো হবে।

Sangbad Ekalavya Digital Desk

প্রতিদিনের ব্রেকিং নিউজ থেকে শুরু করে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, রাজনীতি এবং স্থানীয় সমস্যার বস্তুনিষ্ঠ খবর তুলে আনে সংবাদ একলব্য ডিজিটাল ডেস্ক।

editor@sangbadekalavya.in